‘কোরবানি’ বাংলায় ব্যবহৃত আরবি ভাষার একটি শব্দ। কোরবানির শাব্দিক অর্থ হলো, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য কোনো পার্থিব বস্তু উৎসর্গ করা। লিখেছেন আন্দালিব আয়ান
কোরবানির সূচনা ও ইতিহাস
কোরবানির প্রচলন হয় হজরত আদম (আ.)-এর সময় থেকে। তার দুটি করে সন্তান হতো। এর মধ্যে একজন মেয়ে ও একজন ছেলেসন্তান। বিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম পক্ষের ছেলে দ্বিতীয় পক্ষের মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হতো। বিয়ে নিয়ে আদম (আ.)-এর দুই ছেলে হাবিল ও কাবিলের মধ্যে দ্বন্দ্ব হলে আল্লাহর ফয়সালার প্রতি আদম (আ.) তার দুই সন্তানকে আহ্বান জানান। আল্লাহতায়ালা দুই সন্তানকে কোরবানি করার নির্দেশ দিলে তারা দুই পাহাড়ের চূড়ায় কোরবানির বস্তু রেখে আসে। তখনকার নিয়মানুযায়ী যার কোরবানি কবুল হতো, তার বস্তু আসমান থেকে আগুন এসে ঝলসিয়ে দিত। ফলে তার কোরবানি কবুল হয়েছে বলে প্রমাণ হতো। এভাবেই হাবিলের কোরবানি আগুন এসে ঝলসিয়ে দিলে তার কোরবানি আল্লাহ কবুল করেছেন বলে নির্ধারিত হয়। আল্লাহ পবিত্র কোরআনের দ্বারা ঘোষণা করেন, ‘আর আপনি পাঠ করুন তাদের কাছে আদমের দুই সন্তানের ঘটনা যখন তারা দুজন কোরবানি উপস্থিত করল, তখন আল্লাহ তাদের একজনের কোরবানি গ্রহণ করলেন এবং অপরটা গ্রহণ করলেন না।’ (সুরা মায়িদা : ৩৪)
এটাই কোরবানির সূচনালগ্ন। পরে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সময়ে বর্তমান নিয়মে কোরবানির প্রচলন হয়। সেটাও ছিল কঠিন পরীক্ষার ঘটনা। ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে কোরবানি করেছেন পৃথিবীর ইতিহাসে তা দৃষ্টান্তহীন।
আজ থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগের কথা। ইবরাহিম (আ.)-এর ঘরে তাঁর বৃদ্ধ বয়সে আল্লাহ একটি পুত্রসন্তান দান করেন, তার নাম ছিল ইসমাইল (আ.)। এক রাতে স্বপ্ন দেখলেন আল্লাহর প্রিয় খলিল হজরত ইবরাহিম (আ.)। স্বপ্নে তিনি নির্দেশ পেলেন এমন বস্তু কোরবানি করতে, যা তার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়। কী সেই প্রিয় জিনিস? তিনি প্রথমে ১০টি উট আল্লাহর উদ্দেশে কোরবানি করলে পরের রাতে একই স্বপ্ন আবার দেখতে পেয়ে তিনি ১০০টি উট কোরবানি করেন। তৃতীয় রাতে একই স্বপ্ন দেখলে তিনি গভীর চিন্তায় মগ্ন হয়ে পড়েন। তিনি বুঝতে পারেন যে তার প্রিয় বস্তু পৃথিবীতে একমাত্র তার সন্তান ইসমাইল। তবে কি তার মহান প্রভু ইবরাহিম ও হাজেরার পরম আদরের সন্তান ইসমাইলের কোরবানি চান? আল্লাহর আদেশ ছিল অতি স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন।
সন্দেহেরও কোনো অবকাশ ছিল না তাতে। হজরত ইবরাহিম (আ.) স্তম্ভিত না হয়ে আল্লাহর আদেশের কথা ছেলে ইসমাইলকে জানালেন। জবাবে ছেলে ইসমাইল বললেন, ‘হে আমার প্রিয় পিতা, আপনি যা আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট হয়েছেন, তার সন্তুষ্টির জন্য আপনি তা পালন করুন। ইনশাল্লাহ আপনি আমাকে সবুরকারীদের মধ্যে পাবেন।’ (সুরা সাফফাত : ১০২)
হজরত ইবরাহিম (আ.) ও প্রিয় ছেলে ইসমাইল (আ.) উভয়েই আল্লাহর হুকুম পালনে অবিচল সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন। মা হাজেরাও স্বেচ্ছায় আদরের সন্তানকে সাজিয়ে দিলেন। কোরবানির এ দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসে এটাই প্রথম। বালক ইসমাইলকে হজরত ইবরাহিম (আ.) নিয়ে গেলেন মিনায় (বর্তমান হাজিদের কোরবানির স্থান)। যখন প্রিয় ছেলে ইসমাইলকে কোরবানি করতে উদ্যত হলেন, সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রিয় নবীদ্বয়ের আনুগত্যে সন্তুষ্ট হয়ে তাদের কোরবানি কবুল করলেন। আনুগত্য ও কর্তব্যপরায়ণতার পুরস্কার স্বরূপ একটি মোটাতাজা পশু (দুম্বা) পাঠিয়ে ছেলের পরিবর্তে জবাই করার হুকুম প্রদান করলেন।
বস্তুত ইবরাহিম (আ.)-এর ছেলে কোরবানি দেওয়ার এ অবিস্মরণীয় ঘটনাকে প্রাণবন্ত করে রাখার জন্যই রাসুল (সা.)-এর উম্মতদের জন্য তা ওয়াজিব করা হয়। সেই থেকে সারা বিশ্বে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদ্যাপিত হয়ে আসছে। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতিতে ঈদুল আজহা তথা কোরবানি এক ঐতিহ্যময় স্থান দখল করে আছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আয়াত নাজিল হয়, ‘অতঃপর আমি তাকে একটি পুত্রসন্তানের সুসংবাদ দিলাম। সে যখন পিতার সঙ্গে হাঁটাচলার উপযোগী হলো। তিনি (ইবরাহিম) বললেন, হে পুত্র! আমি স্বপ্নে দেখলাম আমি তোমাকে কোরবানি করছি। সুতরাং তোমার মতামত কী? সে (ইসমাইল) বলল, হে আমার পিতা! আপনি যে বিষয়ে আদিষ্ট হয়েছেন তা পালন করুন। আপনি আমাকে আল্লাহর ইচ্ছায় ধৈর্যশীল হিসেবে পাবেন। অতঃপর যখন তারা দুজন একমত হলো তাকে আহ্বান করলাম, হে ইবরাহিম তুমি তোমার স্বপ্নকে সত্যে রূপ দিয়েছ। আমি এভাবেই সৎপরায়ণ ব্যক্তিদের বিনিময় দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই এটা ছিল স্পষ্ট একটি পরীক্ষা। অতঃপর আমি তাকে দান করলাম একটি মহাকোরবানির পশু।’ (সুরা সাফফাত : ১০১-১০৯)
কোরবানির বিধান
মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.)। আল-কোরআনে বর্ণিত আছে, ‘এটা তোমাদের পিতা ইবরাহিমের জাতি, তিনি তোমাদের নামকরণ করেছেন মুসলিম।’ (সুরা হজ : ৭৮)
মূলত ইবরাহিম (আ.)-এর একটি মহান আদর্শ ছিল কোরবানি, যা আজও আমরা শ্রদ্ধাভরে পালন করে থাকি। তাই কোরবানি করা একটি সুন্নতে ইবরাহিমি। রাসুল (সা.) সামর্থ্যবানদের জন্য কোরবানি আবশ্যক করে দিয়েছেন। আল্লাহর ঘোষণা হচ্ছে, ‘(হে নবী!) আপনি আপনার প্রভুর উদ্দেশে সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন।’ (সুরা কাওসার)
অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য কোরবানির নিয়ম করে দিয়েছি, যাতে তাদের প্রদত্ত চতুষ্পদ জন্তুর ওপর তারা আল্লাহর নাম স্মরণ করে।’ (সুরা হজ : ৩৪)
কোরবানি বিষয়ে রাসুল (সা.)-কে প্রশ্ন করা হলে তিনি তার উত্তর দিয়েছেন। হাদিসে বর্ণিত আছে, সাহাবায়ে কিরামরা একদিন রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করল, ‘কোরবানি কী?’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘এটা তোমাদের পিতা ইবরাহিমের আদর্শ বা সুন্নত।’
সাহাবারা বললেন, ‘হে রাসুল (সা.) এ কোরবানি দ্বারা আমাদের লাভ কী?’ রাসুল বললেন, ‘কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের পরিবর্তে একটি করে নেকি। কোরবানি মূলত ওয়াজিব হলেও এটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। যেসব লোক জাকাত ও সাদকাতুল ফিতর দিয়ে থাকে কিংবা যার ওপর জাকাত ওয়াজিব একমাত্র তাদের ওপরই কোরবানি ওয়াজিব। এ ক্ষেত্রে যদি এর বাইরে কেউ কোরবানি করতে চায়, তা পারবে এবং নিয়তের ওপর ভিত্তি করে অগণিত সওয়াব পাবে।’
কোরবানির গুরুত্ব ও তাৎপর্য
কোরবানি যেহেতু মুসলিম জাতির একটি ঐতিহ্য, তাই এর গুরুত্ব অপরিসীম। হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মর্যাদাবান দিন হচ্ছে কোরবানির দিন।’ (আবু দাউদ)
তেমনি অন্য একটি হাদিস অনুযায়ী, হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, কোরবানির দিনে মানবসন্তানের কোনো নেক কাজই আল্লাহর কাছে তত প্রিয় নয় যত প্রিয় কোরবানি করা। কোরবানি করা পশুগুলোর শিং, পশম ও ক্ষুর কিয়ামতের দিন (আমলনামায়) এনে দেওয়া হবে। কোরবানির পশুর রক্ত মাটিতে ঝরার আগেই আল্লাহর দরবারে পৌঁছে যায়। সুতরাং তোমরা আনন্দচিত্তে কোরবানি করো। (তিরমিজি)
কোরবানি আত্মত্যাগের পরীক্ষা
যুগে যুগে আল্লাহতায়ালা মানুষকে রোগ, বিপদ-আপদ, বালা-মুসিবত দিয়ে তাদের ইমানের পরীক্ষা নিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে সর্বাধিক পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন নবী ও রাসুলরা।
কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘আর অবশ্যই আমি তোমাদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি, ক্ষুধা এবং ফসলাদি, জান ও মালের ক্ষতি করার মাধ্যমে পরীক্ষা করব। এতে যারা ধৈর্যধারণ করবে, তাদের সুসংবাদ দিন।’
রাসুল (সা.)-এর একটি হাদিসে বর্ণিত আছেÑ ‘সর্বাধিক কঠিন পরীক্ষার মুখে পতিত হন নবীরা অতঃপর তাদের মতো যারা এবং এভাবে অন্যদের ওপরও।’ ওপরের আয়াত ও হাদিস দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায় আল্লাহর কাছে যারা বেশি প্রিয় তারাই অধিক বালা-মুসিবত দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ হজরত দাউদ (আ.), হজরত ইউনুছ, হজরত জাকারিয়া, হজরত ইবরাহিম, হজরত মুসা (আ.)-সহ অগণিত নবী, ওলি, আউলিয়ারা আল্লাহর পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তারা ধৈর্য ও তাকওয়া দ্বারা উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে আত্মত্যাগের এ মহান শিক্ষা দেয় কোরবানি। আল্লাহ এ জন্যই ঘোষণা করেছেন, ‘আল্লাহর কাছে কোরবানির পশুর মাংস ও তার রক্ত পৌঁছে না। বরং এ ক্ষেত্রে তাকওয়াই তোমাদের থেকে তার কাছে পৌঁছে।’ (সুরা হজ : ৩৭)
কোরবানির শিক্ষা
মানুষ আল্লাহকে কতটুকু ভালোবাসে তার একটি পরীক্ষা হয়ে যায় এ কোরবানি দ্বারা। কারণ কোরবানির সূচনাই হয়েছে তাকওয়ার ওপর ভিত্তি করে। হজরত ইবরাহিম (আ.) তার সন্তানকে কোরবানি করতে আল্লাহ কোনো চাপ সৃষ্টি করেননি বরং স্বপ্নের মাধ্যমে জানিয়েছেন। তিনি তাকওয়ার চরম শিখরে পৌঁছেছেন বলেই স্বীয় পুত্রকে কোরবানি করতে কোনো দ্বিধাবোধ করেননি। আল্লাহতায়ালা কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি করেছিলেন হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ায় আল্লাহ খুশি হয়ে তাকে মানুষের নেতা হিসেবে নির্ধারিত করেন।
ত্যাগের মানসিকতা সৃষ্টি
পৃথিবীর সম্পদ সবার জন্য আকর্ষণীয়। এ মোহ কিছুটা হলেও কমে যায় কোরবানি দ্বারা। কারণ কোরবানির পশু ক্রয় এবং গরিব, অসহায়কে মাংস দানের মাধ্যমে মানুষের মাঝে ভালোবাসা তৈরি হয়। এর মাধ্যমে জাতিগত ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় হয়। ফলে মানুষ পরকালমুখী হওয়াসহ যাবতীয় বিষয়ে আল্লাহতায়ালাকে স্মরণ করতে সামর্থ্য হয়। আল্লাহ বলেছেন, ‘হে ইমানদাররা তোমাদের সন্তানাদি ও সম্পদ যেন আল্লাহর স্মরণ থেকে তোমাদের গাফিল বা অবচেতন করে না রাখে। যারা এতে অবচেতন হবে তারাই মূলত ক্ষতিগ্রস্ত।’
ইমানি শক্তি বৃদ্ধি
মুসলিমরা মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মত। রাসুলকে না দেখেই তার দেখানো পথকে ইমানদাররা জীবনের চলার পথ বানিয়েছে। তার রেখে যাওয়া বিষয়ে ইমান এনেছে। তেমনি হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর আদর্শ পরিপালনের মাধ্যমে তাদের ইমানি শক্তি বৃদ্ধি করে। আল-কোরআনের সুরা আনফালে বর্ণিত আছে, ‘আর যখন তাদের কাছে আল্লাহর আয়াত পাঠ করা হয়, এতে তাদের ইমান বৃদ্ধি পায় এবং তারা তাদের প্রভুর ওপর আত্মনির্ভরশীল হয়।’ (সুরা আনফাল)
পরকালের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি
কোরবানি করার ফলে মানুষে আত্মতৃপ্তি লাভ করে। কেননা, মানুষ তার প্রিয় বস্তু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে কোরবানি করে থাকে। পরকালে এর সওয়াব পাবে এমন আশা থেকেই এ মহৎ কাজটি সম্পাদন করে থাকে। রাসুল (সা.) একটি হাদিস দ্বারা জানা যায়, তিনি বলেছেন, হে মানুষ সকল, তোমরা ভালো ও ত্রুটিমুক্ত প্রাণী কোরবানি করো, কেননা জান্নাতে যাওয়ার বাহন হবে এগুলো।
কোরবানির বিধান
কোরবানি সাধারণত ছয়টি প্রাণী দ্বারা দেওয়া যায়। এগুলো হলোÑ উট, মহিষ, গরু, দুম্বা, ভেড়া ও ছাগল। কোরবানির পশু ছাগল বা দুম্বা হলে শুধু এক নামেই কোরবানি দেওয়া যায় আর যদি কোরবানির পশু উট, মহিষ বা গরু হয়, তাহলে সাতটি নাম পর্যন্ত দেওয়া যায়। অংশীদার সবার নিয়ত সহিহ থাকতে হবে। কারও মনে মাংস খাওয়া বা অন্য কোনো ভাবনা থাকলে কোরবানি কবুল হবে না। তাই অংশীদার নেওয়ার ক্ষেত্রে বাছাই করে নেওয়া প্রয়োজন। ভালো ও শক্তিশালী পশু বাছাই করা উচিত। অবশ্যই ঈদের নামাজ শেষে কোরবানি দিতে হবে। নামাজ পড়ার আগে কোরবানি দেওয়া বৈধ নয়।
কোরবানির পশু জবাই করার ক্ষেত্রে যেন খুব বেশি কষ্ট না পায়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। শ্রমিকদের পারিশ্রমিক চামড়া, মাংস বা হাড্ডি দ্বারা দেওয়া যাবে না। তাদের মাংস দিলে তা কোনো পারিশ্রমিক হিসেবে ধরা যাবে না।
মাংস বণ্টনের ক্ষেত্রে এক-তৃতীয়াংশ গরিব বা আত্মীয়দের মাঝে বণ্টন করা উত্তম। চামড়া বিক্রীত টাকা এতিম, গরিব বা মিসকিনদের দিতে হবে। নিজের কোনো কাজে সে অর্থ ব্যবহার করা যাবে না। হজ ও কোরবানি এ দুটি বিষয়ের সঙ্গে সময় ও মনের একটি অন্যতম মিল পাওয়া যায়। একই মাসে দুটি বিষয় সংঘটিত হয়। দুটো বিষয় আর্থিক সংগতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ বিষয় দুটি মানুষের পার্থিব লোভকে সামান্যতম হলেও সংকোচন করতে সামর্থ্য হয়। পরকালীন ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় হজ ও কোরবানি দ্বারা। ইমানি শক্তি বৃদ্ধি ও রাসুলের আনুগত্য সৃষ্টি করার অন্যতম মাধ্যম কোরবানি ও হজ। মোট কথা, হজ ও কোরবানি মুসলিম ঐতিহ্যের এক অবিস্মরণীয় দুটি বিষয়।