সোনাগাজীতে কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়ীরা

সোনাগাজীতে ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া পানির দরে বিক্রি হচ্ছে। ৫০ হাজার থেকে লাখ টাকার ওপরে কেনা গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়।

পানির দামের চেয়েও কম দামে বিক্রি হচ্ছে ছাগলের চামড়া। ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়।

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, ৪০ বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে কম দামে চামড়া কেনা বেচা হচ্ছে। ট্যানারি-মালিকদের নির্ধারণ করে দেওয়া দরের এক-তৃতীয়াংশ দামও মিলছে না চামড়ার। অনেক এলাকায় চামড়ার ক্রেতাই পাওয়া যাচ্ছে না। কম দরে চামড়া বিক্রি হওয়ায় দরিদ্র প্রতিবেশী, এতিমখানা, মাদ্রাসা প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এত কম দর হওয়ার কারণ হিসেবে আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের দায়ী করছেন বিক্রেতারা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী, মাদ্রাসা, এতিমখানায় কথা বলে জানা গেছে, গতবার প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া ঢাকায় ৪৫ থেকে ৫০ এবং ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দর নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দাম নির্ধারিত হয় ১৮ থেকে ২০ এবং ছাগলের চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা। এই দরে ৩০ থেকে ৩৫ বর্গফুটের লবণযুক্ত বড় গরুর চামড়া ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকায় ট্যানারি-মালিকদের কেনার কথা।

প্রতিটি চামড়া সংরক্ষণে লবণ, গুদাম ভাড়া, শ্রমিকের মজুরি, পরিবহনসহ মোট ব্যয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা এবং ১০০ টাকা মুনাফা ধরলেও ১ হাজার ২০০ থেকে দেড় হাজার টাকায় মাঠপর্যায়ে কেনা বেচা হওয়ার কথা। কিন্তু চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়। ১৫ থেকে ২৫ বর্গফুটের ছোট ও মাঝারি চামড়ার যৌক্তিক দাম ১ হাজার টাকা হলেও ৫০০ টাকার বেশি দরে কোথাও চামড়া বিক্রি হচ্ছে না। ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে নামমাত্র মূল্যে। নির্ধারিত দরের হিসাবে গড়ে ১০০ টাকায় ছাগলের চামড়া বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে ১০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে।

সোনাগাজীর কাজীরহাট এয়াকুবিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ৩৫০টি কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়ছে কর্তৃপক্ষ, অনেক যোগাযোগের পরেও কেউ কিনতে রাজি হচ্ছে না।

মাদ্রাসা অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক বলেন, সেই ছোট বেলা থেকে দেখে আসতাছি ছাগলের চামড়া ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা গরু ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা কিন্তু দুই তিন বছর থেকে দেখতেছি সেই ছাগল গরু চামড়ার দাম কমে দেড়শ, দুইশ টাকায় চলে এসেছে । জিনিসপত্র সব কিছুর দাম বাড়ছে ৫০০টাকার ছাগল এখন ১০ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে, পাঁচ হাজার টাকার গরু ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে কিন্তু সেই গরু ছাগলের চামড়ার দাম একেবারেই কম।

ওসমানিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল হাকিম জানান, এবার চামড়ার বাজার এতটাই বিপর্যস্ত এবং এতটাই নৈরাজ্য হয়েছে যে মাদ্রাসাগুলো অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবার। চামড়া সংগ্রহ করতে গিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ যে টাকা খরচ করেছে, সেটা ম্যানেজ করতে পারবে না এই চামড়া বিক্রি করে।

মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, শহর-গ্রাম সব খানেই চামড়ার বাজারে ধস নেমেছে। এবার সবচেয়ে ভালো মানের চামড়াও কেনা হচ্ছে ২৫০ থেকে ৫০০ টাকায়।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই প্রতি কোরবানির ঈদে চামড়া ব্যবসা করছি। অতীতে আর কোনো ঈদে এত সস্তায় চামড়া কেনা বেচা হয়নি।’

সোনাগাজী ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নুর নবী বলেন, এবার চামড়া কিনতে পুঁজি সংকটে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অগ্রিম ব্যাংক লোন না দেওয়ায় তাদের কেনা সম্ভব হয়নি। এ কারণে এবার চামড়ার দাম কম।