চীনের দক্ষিণ-পশ্চিম কিংবা মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের কোনো এক পাহাড়ের ঘন বাঁশবনে আদি নিবাস তার। তবে মানুষের রাজনীতি ও অর্থনীতির হিসাব তাকে এনে ফেলেছে বেলজিয়ামের একটি চিড়িয়াখানায়। পেইরি ডেইজা নামের ওই চিড়িয়াখানা কর্র্তৃপক্ষ প্রায় অর্ধযুগ আগে চীন সরকারের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে নিয়ে আসে হাও হাও নামের তরুণী পান্ডাটিকে। সেই তরুণী পান্ডাটি গেল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়বারের মতো মা হয়েছে। একবারে জন্ম দিয়েছে দুটি যমজ ছানা। তা আবার যেনতেন যমজ নয় একটি ছেলে ও একটি মেয়ে ছানা, যা পান্ডাদের ক্ষেত্রে খুবই বিরল ঘটনা।
এ ঘটনাকে হুমকির মুখে থাকা প্রজাতির জন্য নতুন আশার আলো হিসেবে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে তারা একটি ছানা মারা যাওয়ারও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, স্বভাবগত কারণে একই সময়ে দুটি ছানার বিষয়ে খেয়াল রাখতে পারে না মা পান্ডা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার চিড়িয়াখানা কর্র্তৃপক্ষ হাও হাওয়ের যমজ ছানা জন্মের ঘোষণা দেয়। চিড়িয়াখানা কর্র্তৃপক্ষ বলছে, গেল বুধবার রাতে প্রসব উপসর্গ দেখা দেয় হাও হাওয়ের শরীরে। পরে বৃহস্পতিবার সকালে স্বাভাবিকভাবেই প্রথমে ১৬০ গ্রাম ওজনের একটি ছেলে ছানার জন্ম দেয় সে। এর ঘণ্টা দুয়েক পরে ভূমিষ্ঠ হয় ১৫০ গ্রাম ওজনের আরেকটি মেয়ে ছানা।
কর্র্তৃপক্ষ বলছে, ছানা দুটির একটিকে তার মায়ের কাছে রেখে অন্যটি ইনকিউবেটরে রেখে যতœ নেওয়া হচ্ছে। তাকে বোতলে করেই দেওয়া হচ্ছে খাবার।
জানা গেছে, ২০১৪ সালে হাও হাওয়ের জন্য একটি পুরুষ সঙ্গী আনা হয় চিড়িয়াখানায়। এরপর ২০১৬ সালে একটি বাচ্চার জন্ম দেয় সে। সে সময় বাচ্চাটির নাম রাখা হয় তাইও বাও। আর এবার জন্ম দিল আলাদা আলাদা লিঙ্গের দুই শাবক।
চিড়িয়াখানার প্রেসিডেন্ট এরিক ডম্ব বলেন, পান্ডার যমজ ছানার জন্ম প্রজাতিটির জন্য অবশ্যই বিশেষ সুসংবাদ; বিশেষ করে সারা বিশ্বে যখন এ প্রজাতিটির মাত্র ২ হাজরি প্রাণী বেঁচে আছে, সেখানে এ ঘটনা নতুন আশার জন্ম দেয়।
শাবক দুটির জন্য প্রথম কয়েকটা দিন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। কারণ তাদের মা একই সঙ্গে দুজনের খেয়াল রাখতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে যেকোনো একটির জীবন বেশ ঝুঁকির মুখে থাকবে। তবে চিড়িয়াখানা কর্র্তৃপক্ষ দুটোকেই বাঁচিয়ে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করবে বলেও জানান তিনি।