আদালতে জবানবন্দি

স্ত্রীকে হত্যার পর ১৫ টুকরো করে মামুন

গাজীপুরের শ্রীপুরে দাম্পত্য কলহের জেরেই স্ত্রী সুমি আক্তারকে হত্যার পর গুম করতে তার লাশ ১৫ টুকরো করেন স্বামী মামুন মিয়া। এটি ছিল তাদের উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে। আর দুজনেরই আগের সংসারে একটি করে সন্তান আছে। মামুন তার দ্বিতীয় স্ত্রীর আগের সংসারের সন্তানকে মেনে নিলেও সুমি মামুনের আগের সংসারের সন্তানকে মেনে নিতে পারেননি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকত। তবে এ কলহের বিষয়টি তাদের দুজনের পরিবারের কেউই জানত না। আর এই কলহ থেকে মুক্তি পেতেই স্ত্রী সুমিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মামুন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মামুন এসব কথা জানিয়েছেন বলে গতকাল বৃহস্পতিবার গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম সবুর দেশ রূপান্তরকে জানান।

এদিকে গতকাল দিনভর গাজীপুরের বানার নদীতে যান্ত্রিক নৌকা নিয়ে নিহত সুমির মাথাসহ বাদবাকি দেহের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু তার দেহাবশেষের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা গোলাম সবুর জানান, দাম্পত্য জীবনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে গত ৮ আগস্ট সুমিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মামুন। এজন্য স্থানীয় বাজার থেকে সাতটি ঘুমের ওষুধ, একটি ধারালো ছুরি, তিনটি ব্যাগ ও কিছু পলিথিন কিনে আনেন তিনি। ওইদিন রাতেই চারটি ঘুমের ওষুধ হালিমের সঙ্গে মিশিয়ে সুমিকে খাওয়ান মামুন। এরই ধারাবাহিকতায় রাত ১টার দিকে শ্বাসরোধে হত্যার পর বাথরুমে নিয়ে সুমির মরদেহ ১৫ টুকরো করেন তিনি। এরপর লাশের টুকরাগুলো তিন ভাগ করে শুক্রবার ভোরে ও রাতে কাপাসিয়া সেতুর ওপর থেকে বানার নদীতে ফেলে দিয়ে আসেন মামুন। তৃতীয় দফায় লাশের খণ্ড নিতে এসে সুমির স্বজনদের সঙ্গে মামুনের দেখা হয়ে যায়। এক পর্যায়ে সেখান থেকে পালিয়ে মামুন গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরের মাধবপুর এলাকায় তার ফুফাত ভাইয়ের বাসায় আত্মগোপন করেন। সেখান থেকেই গত মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাকে আটক করে। পরে গত বুধবার গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মামুন। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক নাজমুন নাহার।

সুমি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার দেবকান্দা গ্রামের নিজাম উদ্দিনের মেয়ে। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুরের গিলারচালা এলাকার সাবলাইম গ্রিনটেক নামে একটি পোশাক কারখানার সুয়িং অপারেটর ছিলেন। স্বামী মামুন মিয়া গাজীপুরের কাপাসিয়ার বড়বাড়ি গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে। তারা স্বামী-স্ত্রী শ্রীপুরের গিলারচালা আসপাড়া মোড় এলাকায় শফিকুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। মামুন মিয়া ওই এলাকায় ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করতেন।