চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধানে অপরিকল্পিত খাল খননে প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক খালে ধসে পড়ছে। উপজেলার মায়ানী ও খইয়াছড়া ইউনিয়নের মধ্যবর্তী সাহেরখালী খালের পাশ দিয়ে যাওয়া শহীদ আবুল কালাম সড়কের কাজীরহাট থেকে পশ্চিম ছাগলখাইয়া পর্যন্ত, কাজীরহাট থেকে পূর্ব ছাগলখাইয়া সড়কের অংশ ও কাজীরহাট থেকে কাজীরহাট মাদ্রাসার ব্রিজ পর্যন্ত সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সড়কে ভাঙনের কারণে তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাউবোর এমন অবস্থায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করছে স্থানীয় এলজিইডি বিভাগও।
জানা গেছে, চলতি শুষ্ক মৌসুমে পাউবো সীতাকু-ের তত্ত্বাবধানে মিরসরাইয়ে সাহেরখালী খালের ৪ কিলোমিটার, মঘাদিয়া খালের ২ কিমি ও ১০০ মিটার এবং ডোমখালী খালের ৪ কিলোমিটার খনন কাজ করা হয়। খালগুলো গড়ে ২২ মিটার চওড়া ও ১ দশমিক ৪৯ মিটার করে গভীর করে কাটা হয়েছে বলে জানান ঠিকাদার এস এম আবুল হোসেন। খালগুলো কাটতে গিয়ে খালের দুপাশের সড়কের জন্য পাশে পর্যাপ্ত জায়গা না রাখায় বর্ষায় সড়কগুলো ভেঙে খালে পড়ে যাচ্ছে।
শহীদ আবুল কালাম সড়কের কাজীরহাট থেকে ছাগলখাইয়া পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, সাহেরখালী খালের পশ্চিম অংশে কাজীরহাট থেকে পশ্চিম ছাগলখাইয়া পর্যন্ত কার্পেটিং করা সড়ক ধসে খালে পড়ে গেছে। ছাগলখাইয়ায় পূর্ব মায়ানি শহীদ আবুল কালাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে সড়ক ধসে পড়েছে খালে। এছাড়াও সড়কের আরও বিশাল এলাকাজুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় সড়কটি খালে বিলীন হতে পারে। ওই অংশের বাঁধ ধসে পড়ায় কয়েক জায়গায় থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি খালে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ওই এলাকায় বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
পশ্চিম ছাগলখাইয়া এলাকার বাসিন্দা খুরশিদ আলম, আবুল কাশেম, নুরুল আলম, এমরান হোসেন মেম্বার জানান, খাল কাটার সময় ঠিকাদারকে বারবার বলার পরও তিনি সড়কের কথা বিবেচনা না করে এসকেভেটর দিয়ে খাড়াভাবে খাল খনন করেছেন।
খাল খননের পর সড়ক ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে কথা বলতে খনন কাজের ঠিকাদার এস এম আবুল হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে লাইন কেটে দেন। এরপর অনেকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মিরসরাইয়ের উপজেলা প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, পাউবো অপরিকল্পিতভাবে খাল খননের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের খালের পাশে থাকা সড়কগুলো ধসে পড়ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (চট্টগ্রাম) সাব-ডিভিশনাল প্রকৌশলী আবুল কাশেম ফজজুল হক বলেন, খাল খননের জন্য জায়গাও পাওয়া যায় না। এখন খাল খননের পর সড়ক ধসে গেলে তাতে আমাদের কী করার আছে?