ক্রেতা না থাকায় এবারের ঈদুল আজহায় সিলেটে কোরবানির পশুর বহু চামড়া গেছে ময়লার ভাগাড়ে, নদী-খালে ও মাটির নিচে।
কেবল সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষই নগরীর যত্রতত্র ফেলে রাখা প্রায় ২০টন চামড়া নিয়ে ফেলেছে দক্ষিণ সুরমার লালমাটিয়ায় সিটির সবচেয়ে বড় ভাগাড়ে (ডাম্পিং গ্রাউন্ডে)।
এদিকে সড়কের পাশে, খালে-বিলে ফেলা চামড়া পচে এখন উৎকট দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ওসমানীনগরের সাদিপুর নিরাইয়া ব্রিজের কাছে ফেলা চামড়ার স্তূপ থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধ ওই এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে।
ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ময়নুল হক চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘চামড়ার পচা গন্ধ বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। লোকজন নাক চেপে চলাফেরা করছেন। এলাকায় রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে’।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছর ঈদুল আজহায় মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহ করে পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। অনেক মাদ্রাসা-এতিমখানা নিজেদের খরচ চালাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে লোকজনের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করে। এই চামড়া বিক্রি করে তারা ভালো আয় করতেন। কিন্তু এবারের ঈদুল আজহায় চামড়ার বাজারের ধস সবাইকে অনেকটা হতবাক করেছে। লাখ টাকা দামের গরুর চামড়া ১শ টাকায়ও কেউ নিতে চায় না।
সিলেট নগরীর কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী ঈদের দিন গরুর চামড়া ২৫ টাকা ও খাসির চামড়া ১০ টাকা দরে কিনবে বলে জানায়। এ কারণে অনেকে ক্ষুব্ধ হয়ে চামড়া বিক্রি না করে ফেলে দেন। নগরীর আম্বরখানার দারুস সালাম মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ঈদের দিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাজারখানেক চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। সন্ধ্যার পরে চামড়াগুলো বিক্রির জন্য তারা আম্বরখানা পয়েন্টে নিয়ে যান। সেখানে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে ক্রেতা না পেয়ে রাত ১০টার দিকে চামড়াগুলো সড়কের পাশে ফেলে রেখে চলে যান। পরে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীরা ট্রাকে করে চামড়াগুলো নিয়ে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেন।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসা শিক্ষক আবদুল বাতিন বলেন, প্রতি বছর কোরবানির চামড়া বিক্রি করে মাদ্রাসার তহবিলে যথেষ্ট টাকা জমা হতো। কিন্তু এবারই প্রথম চামড়া সংগ্রহ করে উল্টো তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। চামড়া সংরক্ষণের জন্য যে লবণ কেনা হয়েছিল, সেই টাকাটাও উঠেনি। পরে তারা চামড়া ফেলে রেখে চলে যান।
এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ঈদের দিন কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারে সিটি কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছে। ওইদিন আম্বরখানায় ফেলে রাখা চামড়াগুলো দুর্গন্ধ ছড়ানোয় সেগুলো ময়লার ভাগাড়ে নিয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বালাগঞ্জ উপজেলার ৫টি মাদ্রাসার সংগৃহীত প্রায় ৪শ চামড়া বিক্রি না হওয়ায় কুশিয়ারা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এছাড়া সিলেটের অনেক এলাকায় অবিক্রীত চামড়া মাটিতে পোঁতা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সিলেট বহুমুখী চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শামীম আহমদ বলেন, ঢাকায় চামড়ার ক্রেতা না থাকায় এবারের ঈদে সিলেটের ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহে আগ্রহী হননি। এ কারণে চামড়া ছিল মূল্যহীন। তাই বহু চামড়া নষ্ট হয়েছে। অল্প কিছু চামড়া স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কিনেছেন। এগুলো বিক্রি করেও তারা উপযুক্ত মূল্য পাবেন কি-না এ নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন।