উত্তর কোরিয়ার সেনাদের সঙ্গে আবাহনীর লড়াই

ফ্লাইট শিডিউল জটিলতায় একটু আগেভাগেই ঢাকায় এসে পড়েছে উত্তর কোরিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন ৪.২৫ স্পোর্টিং ক্লাব, যারা ‘এপ্রিল ২৫’ নামেও সমধিক পরিচিত। গত শনিবার ঢাকা নেমে গতকাল সকালে আবাহনী মাঠে গা গরমও করে নিয়েছে সেনা সদস্যদের নিয়ে গড়া উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে সফল দলটি।

আগামী বুধবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে তারা এএফসি কাপের ইন্টার-জোন সেমিফাইনালে মোকাবিলা করবে ছ’বারের বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেডের।

গতকাল অনুশীলনে অবশ্য কোচ অথবা ফুটবলারদের কেউই কথা বলেননি উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে। তবে দলটির প্রতিনিধি হয়ে আসা জিং মিয়ং কিছু তথ্য তুলে ধরলেন, যা থেকে খানিকটা ধারণা পাওয়া গেল তাদের সম্পর্কে।

দেশটির ঘরোয়া অবকাঠামো খানিকটা অন্যরকম। বছরব্যাপী দু’মাস অন্তর অন্তর একটি করে মোট ছ’টি টুর্নামেন্ট আয়োজিত হয় উত্তর কোরিয়ায়। সেই ছয় টুর্নামেন্টের ভিত্তিতে হয় র‌্যাঙ্কিং। শীর্ষ ১৩টি ক্লাবকে নিয়ে আয়োজিত হয় লিগ। ৪.২৫ এসসি সেই লিগের রেকর্ড ২১ বারের চ্যাম্পিয়ন। সামরিক সরকার মালিকানাধীন এই ক্লাবটির স্কোয়াডের সব ফুটবলার আর্মি অফিসার। এর মধ্যে অধিনয়াক রিম চল-মিনসহ দুজন মেজর র‌্যাঙ্কধারী।

তবে অধিনায়ক উত্তর কোরিয়া জাতীয় দলের সদস্য নন। সে দেশের হয়ে খেলা ৮ জন রয়েছেন এই দলে। তবে ঢাকায় এসেছেন জাতীয় দলের চারজন খেলোয়াড়- ফরোয়ার্ড কিম ইউ-সং, এন ইল-বম, মিডফিল্ডার ইয়ন ইল-গোয়াং এবং ডিফেন্ডার অ্যানসং ইল। বাকি চারজন আসেননি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের জন্য চলমান ক্যাম্পে যোগ দিতে হওয়ায়। আর দলটির কোচ হয়ে এসেছেন উত্তর কোরিয়া দলের সাবেক ফুটবলার কিম জং ম্যান।

আবাহনী যেখানে এএফসি কাপের এই পর্যায়ে প্রথমবারের মতো খেলতে যাচ্ছে, সেখানে ৪.২৫ টানা তৃতীয়বারের মতো খেলতে যাচ্ছে ইন্টার-জোন সেমিফাইনাল। প্রথমবার অর্থাৎ ২০১৭ সালে তারা ইন্টার-জোন সেমিফাইনালে এসে হেরে গিয়েছিল ভারত জায়ান্ট বেঙ্গালুরু এফসির কাছে। তবে গত বছর দলের শক্তি বাড়িয়ে ঠিকই ফাইনালে উঠে আসে সিঙ্গাপুরের একটি দলকে দু’লেগ মিলিয়ে ১১-১ গোলে হারিয়ে।

ইন্টার-জোন ফাইনালে অবশ্য তারা তুর্কমেনিস্তানের আলতিন আসিরের কাছে অ্যাওয়ে ম্যাচে কম গোল করার কারণে হেরে যায়। এবার দলটির লক্ষ্য এএফসি কাপ জয়। সেই লক্ষ্যে তাদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ফরোয়ার্ড কিম ইউ-সং দারুণ ফর্ম নিয়ে এসেছেন ঢাকায়। গ্রুপপর্বে তিনি একাই করেছেন ৬ গোল।

দলটি দুর্দান্ত একটা রক্ষণ নিয়ে ঢাকায় এসেছে। গ্রুপপর্বে তারা ছয় ম্যাচে যেখানে গোল করেছে ১৭টি, সেখানে গোল খেয়েছে মাত্র দুটি। নিজেদের মাঠে খেলা তিন ম্যাচে কোনো গোল খায়নি দলটি। দলটির প্রতিনিধি জিং মিয়ং অবশ্য জানিয়েছেন ফরোয়ার্ড কিম সম্প্রতি মঙ্গোলিয়ার একটি ক্লাবের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচে অ্যাঙ্কেল ইনজুরিতে পড়েছেন। তাই বুধবার তার পুরো সময় খেলার সম্ভাবনা একেবারেই কম।

মিয়ং ঢাকার আবহাওয়া নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। দলটি ঢাকায় আসার আগে ভেবেছিল প্রচন্ড গরম তাদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দেখা দেবে, ‘আমরা যতটা ভেবেছিলাম ততটা গরম কিন্তু নয় এখানে। জানি না সামনের দিনগুলোতে কী অপেক্ষা করছে। আমরা চেষ্টা করছি ঢাকার আবহাওয়ার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে। গরমটা কম থাকায় সেটা আমাদের জন্য সহজ হচ্ছে।’

উত্তর কোরিয়ার এই দলটিতে বিদেশি কোটায় কোনো ফুটবলার নেই। তাই বলে খুব আশান্বিত হওয়ার কিছু নেই স্বাগতিক আবাহনীর। ধারে-ভারে, অভিজ্ঞতায় ৪.২৫ অনেকটা এগিয়ে থেকেই বুধবার মাঠে নামবে। আশা একটাই- নিজেদের পরিচিত কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে যদি ইতিবাচক কিছু করতে পারে আবাহনী।