প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজধানীতে শোভাযাত্রা করবে বিএনপি

এক লাখ মামলায় ২৬ লাখ নেতাকর্মী আসামি : ফখরুল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি আগামী ১ সেপ্টেম্বর রবিবার দলটির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন রাজধানী ঢাকায় শোভাযাত্রা করবে। গতকাল সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন বিএনপি যে শোভাযাত্রা করবে তা মূলত অবরুদ্ধ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে আটক রাখা হয়েছে তার প্রতিবাদ হিসেবে। তিনি বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই করছে। গণতন্ত্রের জন্য বিএনপি যতটা ত্যাগ স্বীকার করেছে এতটা কেউ করেনি। বর্তমানে সারা দেশের বিভিন্ন থানায় দায়ের এক লাখ মামলায় বিএনপির ২৬ লাখ নেতাকর্মী আসামি।

শত শত নেতাকর্মী গুম-নিহত হয়েছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিএনপিকে প্রতি মুহূর্তে মামলা-মোকদ্দমা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এরপরও দেশের জনগণের বিশ্বাস, বিএনপির নেতৃত্বে এ দেশে আবার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে সত্যিকার অর্থে জনগণের সংসদ ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে বিএনপি।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছেÑ ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ১০টায় শেরেবাংলা নগরে জিয়ার কবরে পুষ্পার্ঘ অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ। সেদিন দলের পক্ষ থেকে পোস্টার ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় যে আলোচনা সভা হবে তার তারিখ ও স্থান পরে জানানো হবে। সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ও আলোচনা সভার সময় স্থানীয় নেতারা ঠিক করবেন। যৌথসভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, বিলকিস জাহান শিরিন এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদকরা।

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যায় আ.লীগের নেতারাই জড়িত : জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকল সকালে বিএনপি মহাসচিব সংগঠনটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জড়িত নন। জড়িত ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতারা। পরবর্তীতে তারা যে সরকার গঠন করেন তাতে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা-এমপিরাই মন্ত্রী হন। কোরবানির চামড়ার অস্বাভাবিক দরপতনের জন্য সরকার বিএনপিকে যে দোষারোপ করছে সে প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকার দেশ চালাতে পারছে না। তাই অর্বাচীনের মতো কথা বলা ছাড়া মন্ত্রী-এমপিদের তো আর বলার কিছু নেই। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পায়নি। সীমান্তে হত্যা বন্ধ হয়নি। বাণিজ্য ঘাটতি দূর হয়নি। সে জন্য দেশের জনগণ খুব বেশি আশাবাদী হতে পারছে না।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর শরফত আলী সপু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, সহসভাপতি গোলাম সারোয়ারসহ সংগঠনের কয়েক শ নেতাকর্মী।