জাতীয় দলের আবহে ফিরে রোমাঞ্চিত জহুরুল

ছয় বছর পর জাতীয় দলের প্রাথমিক ক্যাম্পে ডাক পেলেন জহুরুল ইসলাম অমি। সোমবার ক্যাম্পের প্রথম দিন ব্লিপ টেস্টে পেয়েছেন ফিজিও লেটার মার্কস। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ভালো খেলা এই ওপেনার আফগানিস্তানের বিপক্ষে তামিম ইকবালের বিকল্পও হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। এই ডানহাতি ব্যাটারও সেই সুযোগের অপেক্ষায়।

২০১০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর ৭টি টেস্ট ও ১৪টি ওয়ানডে খেলেছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জহুরুল। তবে ২০১৩ সালে বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডের পর আর সুযোগ মেলেনি জাতীয় দলে। অনেক দিন পর ডাক পেয়ে বেশ রোমাঞ্চিত এই ৩২ বছর বয়সী।

অপেক্ষা তার চূড়ান্ত স্কোয়াডে সুযোগের, ‘আসলে আমি অনেক দিন পর প্রাথমিক স্কোয়াডে সুযোগ পেলাম। প্রত্যেকটি খেলোয়াড়েরই স্বপ্ন জাতীয় দলে খেলার। এই উদ্দেশ্যে প্রত্যেক বছর শুরু করি। আল্লাহর রহমতে এবার প্রিমিয়ার লিগে ভালো পারফর্ম করার পর আমাকে ‘এ’ দলে ডাকল। বেঙ্গালুরুতে ‘এ’ দলে মোটামুটি ভালো হয়েছে। এরপর প্রাথমিক স্কোয়াডে ডাকল। এখন সবকিছু আমার চেষ্টা এবং আল্লাহর সহায়তার ওপরে। দেখা যাক ইনশা আল্লাহ…।’

জহুরুলের সামনে ভালো সুযোগ তামিম ইকবাল না থাকায়। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ও পরে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে ছুটি নিয়েছেন তামিম। তবে এ ক্ষেত্রে তার প্রতিদ্বন্দ্বীও রয়েছে বেশ। জহুরুল সবার জন্যই এটাকে সুযোগ হিসেবে মানছেন, ‘আসলে তামিম অনেক বড় মানের খেলোয়াড়। তার গ্যাপ পূরণ করাটা কঠিন। তবে এরপরেও এটি বড় একটি সুযোগ সাদমান, ইমরুল, আমি, সৌম্য বা যারা আছি।’

জহুরুল যোগ করে বলেন, ‘টেস্ট সব সময় ক্রিকেটের বড় ফরম্যাট। যাদেরই সুযোগ দেওয়া হোক, এখানে ভালো পারফর্ম করা গেলে সব ফরম্যাটে পারফর্ম করা সহজ। আমি বলব যে যেহেতু তামিম নেই, তাই যারা সুযোগ পাবে তাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ।’

সেই সুযোগটা নিজে তৈরি করতে সচেষ্ট জহুরুল, ‘আসলে আমি চেষ্টা করছি দিন দিন আরো উন্নতি করার এবং ফিটনেস নিয়ে কাজ করার। বাকিটা নির্বাচকদের ওপরে। ওনাদের যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আমাকে নিবে এবং আমি আমার সর্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টা করব ইনশা আল্লাহ।’

একটা সময় ত্রিশ পেরোলেই বুড়োর খাতায় ফেলার রীতি ছিল এ দেশে। এখন অবশ্য চিত্রটা বদলেছে। আবদুর রাজ্জাক, ফরহাদ রেজা যার উদাহরণ। পূর্বে দুজনকেই দেখা যেতে জাতীয় দলের স্কোয়াডে। যার সর্বশেষ সংযোজন হতে পারেন জহুরুল।

এ ক্ষেত্রে রাজশাহীর এই ক্রিকেটার বললেন ফিটনেসের আলাদা ‍গুরুত্ব নিয়ে, ‘আমাদের ঘাটতি হলো আমরা ফিটনেস নিয়ে খুব বেশি কাজ করি না। এই কারণে আমাদের পারফরম্যান্সও ভালো হয় না। আর পারফরম্যান্স ভালো হলে এই লেভেলে আসলে ফিটনেস অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। সেটা হয়তো আমরা ধরে রাখতে পারি না। আমি আশা করব যে ৩০ প্লাস হলে না, ৪০ হলেও যেন এমন ফিটনেস থাকে যেন খেলোয়াড়রা খেলতে পারে।’