বর্জ্য যেখানে সম্পদ

বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সরকার প্লাস্টিক বর্জ্যরে বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার বাঙুন শহর এখনো আবর্জনাকে সম্পদ হিসেবে দেখা হয়। বাঙুনের বাসিন্দা কেমান, তার সন্তানদের স্কুলের ব্যয় বহন করেন আবর্জনা থেকে। তার মতো আরও অনেকে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত।

শহরটির দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ আবর্জনা এবং প্লাস্টিক বোতল বাছাই কাজের সঙ্গে যুক্ত। বাছাই করা প্লাস্টিক উপকরণ নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় কোম্পানিগুলোতে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত ওই কোম্পানিগুলো সংগৃহীত প্লাস্টিক চীনে রপ্তানি করত। কিন্তু সম্প্রতি চীন বর্জ্য আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলে বাঙুনের কোম্পানিগুলো বেকায়দায় পড়েছে।

কেমানের ভাষায়, ‘আমার তিন সন্তান। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। আবর্জনা ঘাঁটাঘাঁটি থেকে জীবিকা নির্বাহ করে আমি তাদের লেখাপড়ার খরচ জোগাই।’ ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের বাঙুন শহর দেশটির দরিদ্রপীড়িত অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম। পশ্চিমা দেশগুলো থেকে পাঠানো আবর্জনার ওপর নির্ভর করে চলে বাঙুনের মানুষের জীবনযাত্রা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আবর্জনা যায় ইন্দোনেশিয়ায়।

পরিবেশবাদী সংস্থা গ্রিন পিসের মতে, গত কয়েক বছরে ইন্দোনেশিয়ায় বর্জ্য প্লাস্টিক আমদানির হার কয়েক গুণ বেড়েছে। ২০১৭ সালে প্রতি মাসে দশ হাজার টন প্লাস্টিক আমদানি করত দেশটি। কিন্তু গত বছর প্রতি মাসে এই আমদানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার টন। ইন্দোনেশিয়ার এই প্লাস্টিক আমদানিতে দেশটির জনস্বাস্থ্যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কিন্তু এ নিয়ে দেশটির সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ।

বাঙুনে প্রতিদিন চল্লিশটির বেশি আবর্জনার গাড়ি প্রবেশ করে। খোলা মাঠে জমা করে রাখা ওই আবর্জনা খালি হাতে ঘেঁটে প্লাস্টিকসহ অন্য উপকরণ বাছাই করে বাসিন্দারা। এরপর সেই উপকরণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। যেমন কাগজজাতীয় উপকরণ পাঠানো হয় স্থানীয় পেপার কারখানায়। সেখানে ওই কাগজ পুনর্ব্যবহারের উপযোগী করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে কোনো কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় অধিকাংশকেই এ কাজে নামতে হয় বলে জানান আঞ্চলিক নেতা এম ইখসান।

ইখসানের মতে, ‘এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য আবর্জনা অনেক লাভজনক। আঞ্চলিক অর্থনীতি চাঙা করতেও এই আবর্জনা ভূমিকা পালন করছে।’ যদিও পরিবেশবাদীরা ভিন্ন চিত্রের দাবি করেন বাঙুনে। প্রতি রাতে ব্যাপক মাত্রায় প্লাস্টিক পোড়ানোর কারণে এরই মধ্যে শহরটি পানির আধার দূষিত হয়ে গেছে। মানুষের শরীরে দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন রোগ।