লালমনিরহাটে বোরো সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে কারণ দর্শানোর নোটিস

চলতি ‘বোরো (চাল) সংগ্রহ-১৯’-এর আওতায় লালমনিরহাট সদর উপজেলায় ৩২টি চালকলের পাক্ষিক ছাঁটাই ক্ষমতা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে খাদ্য বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। মিলের ছাঁটাই ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আইয়ুব আলী ৩২টি চালকলের পাক্ষিক ছাঁটাই ক্ষমতা বৃদ্ধি দেখিয়ে তাদের অনুকূলে ৩০০ টন চাল ছাঁটাইয়ের বরাদ্দ দেন। পাক্ষিক ছাঁটাই ক্ষমতা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালা-২০১৭ অনুসরণ করা হয়নি বলে মিলারদের অভিযোগ রয়েছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে পাক্ষিক ছাঁটাই ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য অভিযুক্ত খাদ্য কর্মকর্তাকে গত ১৭ জুন কারণ দর্শানোর নোটিস দেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক।

নোটিসে বলা হয়, খাদ্য বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে। এছাড়া নতুন ১৬টি চালকলের অনুকূলে চাল ছাঁটাইয়ের বরাদ্দ রাখা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে মিলারদের মাঝে। একটি চালকলে হাউজ, বয়লার, চাতালের মাঠ (ধান শোকানোর জায়গা) ও বিদ্যুৎ সংযোগ সুবিধা থাকার কথা  থাকলেও ১৬টি চালকলে তা নেই। নতুন এসব চালকলের বেশিরভাগেরই বয়লার, চিমনি ও হান্ডি নেই। কোনোটিতে বিদ্যুৎ সংযোগও নেই। সরকার নির্দেশিত সুবিধা ও অসম্পূর্ণ অবকাঠামো ১৬টি চালকলের অনুকূলে ৪৩৩ টন চাল বরাদ্দ রাখা  হয়  বলে অভিযোগ উঠেছে।সরেজমিনে অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা ও ব্যাপক অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়। এ ব্যাপারে লালমনিরহাট চালকল মালিক সমিতির সভাপতি শেখ আবদুল হামিদ বলেন, পুরনো ১২৬টি চালকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩২টির পাক্ষিক ছাঁটাই ক্ষমতা বৃদ্ধি দেখানোয় অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালা লংঘিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই ত্রুটিপূর্ণ। নতুন ১৬টি চালকলে অবকাঠামো সঠিক নেই বলে তিনি আরও জানান।  কারণ দর্শানোর জবাব দেওয়া হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে লালমনিরহাট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আইয়ুব আলী  বলেন, ‘যিনি কারণ দর্শন করেছেন তাকেই প্রশ্ন করুন।’

লালমনিরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব)  কাজী সাইফুদ্দিন জানান, ৩২ চালকলের বিষয়ে সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কারণ দর্শানো পত্রের জবাব দিয়েছেন। তার লিখিত জবাবপত্র  ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।’