শুরু হচ্ছে ডমিঙ্গো-অধ্যায়

বাংলাদেশের ক্রিকেটে রাসেল ডমিঙ্গো-অধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে আজ থেকে। সকাল সাড়ে ৯টায় মিরপুরে স্বদেশি চার্লস ল্যাঙ্গাভেল্টকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন তিনি। এরপর ক্রিকেটারদের চলমান কন্ডিশনিং ক্যাম্পে যোগ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবেন বাংলাদেশের নতুন হেড কোচ।

দায়িত্ব নিতে গতকাল বিকেল ৫টার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ঢাকায় পা রাখেন ডমিঙ্গো। সেখান থেকে গুলশানের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে চলে যান তিনি; আপাতত সেটাই অস্থায়ী নিবাস তার। এর আগে সকাল ৯টায় ঢাকায় পৌঁছান বাংলাদেশের নতুন বোলিং কোচ ল্যাঙ্গেভেল্ট। তিনিও একই হোটেলে উঠেছেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তাদের খুশি করার পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ডমিঙ্গো। মাইক হেসন, চন্দিকা হাথুরুসিংহে, পল ফারব্রেস, মিকি আর্থারদের টপকে তাই কোচের ব্যাটনটা তার হাতে উঠেছে। গতকাল ঢাকায় পা রেখে ওই কারণেই যেন তৃপ্তির হাসি ৪৪ বছর বয়সী ডমিঙ্গোর চোখেমুখে। বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনের ঝক্কি সামলে যখন ভিআইপি গেট দিয়ে বের হয়ে এলেন রাজ্যের ভালোলাগা ফুটে উঠেছিল তার ওই হাসিতে। লম্বা সফরের ক্লান্তি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার আনন্দের কাছে তখন তুচ্ছ। একটু দূরে দাঁড়ানো সাংবাদিকদের ভিড় নজর এড়ায়নি তার। সাগ্রহে হাসিমুখে হাত নেড়ে জবাব দিয়েছেন সম্ভাষণের। কিছু বলার জন্য প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু পরদিনই (আজ) বিসিবির আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন বলে তা হয়ে ওঠেনি। তাকে গ্রহণ করতে আসা বিসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উঠে যান গাড়িতে।

কদিন আগেই, ৭ আগস্ট বিসিবি কর্তাদের কাছে সাক্ষাৎকার দিতে এসেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই কোচ। সেদিনই সাকিব-তামিমদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা খুব স্পষ্টভাবে দেখাতে পেরেছিলেন। ছোট্ট সাক্ষাৎকার পর্বে বিসিবি পরিচালকদের মনে দাগ কাটেন। টাইগার ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা ও আগ্রহ দিয়েই বাকি প্রার্থীদের পেছনে ফেলেন। তাই মাত্র ৯ দিনের মাথায় আগামী দুই বছরের জন্য ডমিঙ্গোকেই কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিসিবিপ্রধান নাজমুল হাসান পাপন।

ট্যাক্স বা আয়কর বাদে ডমিঙ্গো মাসে বেতন পাবেন ১৫ হাজার ডলারের কাছাকাছি, টাকায় যেটি ১২ লাখ ৬৮ হাজার। আয়করসহ প্রোটিয়া কোচের বেতন ১৮ হাজার ডলারের মতো। সর্বশেষ কোচ স্টিভ রোডস পেতেন ২২ হাজার ডলার বা সাড়ে ১৮ লাখ টাকা। সে তুলনায় ডমিঙ্গোকে কমেই পেয়েছে বিসিবি।

২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে খুব ভালোভাবে অনুসরণ করেছিলেন ডমিঙ্গো। কারণ, গত ৫-৬ বছরে সবচেয়ে উন্নতি করা দলটিকে তার ভালো লেগেছিল। এই দলটিকে এবার নিজের অধীনে পেয়েছেন। তার লক্ষ্য দলটিকে ঘষেমেজে ভবিষ্যতের পরাশক্তি বানানো। গণমাধ্যমে গত কদিনে সেই লক্ষ্যের কথাই বলেছেন তিনি, ‘ক্রিকেটে এখনকার দলগুলোর দিকে যদি তাকান, তবে দেখবেন গত ৫-৬ বছরে সবচেয়ে উন্নতি করা দল বাংলাদেশ। দলটির প্রতি সমর্থনও দারুণ। তাদের ক্রিকেট বোর্ডের নির্দিষ্ট লক্ষ্য আছে, এই খেলাটিকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে অনেক এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তাদের। বলতে পারেন আগামীর ক্রিকেট শক্তি হওয়ার সব রসদও তৈরি আছে বাংলাদেশে। এ কারণেই আমি দলটির কোচ হওয়ার জন্য এতটা আগ্রহ দেখিয়েছি।’

রোড-ওয়ালশউত্তর বাংলাদেশ দলের কোচিং কন্টিনজেন্টে প্রোটিয়াদের প্রাধান্য। হেড কোচ ডমিঙ্গো ও বোলিং কোচ ল্যাঙ্গাভেল্ট চলে এলেন একই দিনে। ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জি ছুটি কাটিয়ে ফিরবেন দু-একদিনের মধ্যেই। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের হেড কোচ থাকাকালীন ল্যাঙ্গাভেল্টকে বোলিং কোচ হিসেবে পেয়েছিলেন ডমিঙ্গো। তাই দুজনের নতুন করে বোঝাপড়া করার কিছু নেই। এছাড়া স্বদেশি বলে এমনিতেই ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং কোচের সঙ্গে হেড কোচের জমবে ভালো। এবার দেখা যাক তারা মিলিতভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে কতদূর এগিয়ে নেন।