ভারতীয় হিসেবে আমি গর্বিত নই : অমর্ত্য সেন

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলে মোদি প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে গত সোমবার দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতীয় হিসেবে গর্বিত নন বলে মন্তব্য করেন।

সরকারি সিদ্ধান্তের বিভিন্ন ফাঁকফোকর সামনে এনে অমর্ত্য সেন বলেন, ‘বিশ্বের গণতান্ত্রিক মানদণ্ড অর্জনের জন্য ভারত এত কিছু করেছে এবং ভারতই গণতন্ত্রের পক্ষে প্রথম প্রাচ্যের দেশ ছিল। তারপরও আমি এখন ভারতীয় হিসেবে এসব নিয়ে আর গর্বিত নই। কেননা, যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাতে আমরা সেই খ্যাতি হারিয়ে ফেলেছি।’

জম্মু-কাশ্মীরে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে আটক ও ব্যাপকমাত্রায় সামরিক উপস্থিতির কারণ হিসেবে মোদি সরকার প্রাণহানি ঠেকানোর কথা বললেও ড. অমর্ত্য সেন একে ঔপনিবেশিক যুগের অজুহাত হিসেবে দেখেন। তার আশা ছিল, স্বাধীনতার পর ব্রিটিশ যুগের ‘প্রতিরোধমূলক আটক’ বন্ধ হবে। ব্রিটিশরা তাদের শাসন টিকিয়ে রাখতে এমন অজুহাত দিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিপুলসংখ্যক কাশ্মীরিকে আটক করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, ‘এটি সর্বোত্তম ঔপনিবেশিক অজুহাত। ব্রিটিশরা এভাবেই ২০০ বছর ধরে দেশ শাসন করেছিল। স্বাধীনতা লাভের পর আমার চূড়ান্ত প্রত্যাশা ছিল, আমরা কখনো প্রতিরোধমূলক আটকের ঔপনিবেশিক ঐতিহ্যে ফিরে যাব না।’

জম্মু ও কাশ্মীরের মূলধারার রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন অমর্ত্য সেন। তিনি বলেন, ‘জনগণের নেতাদের কণ্ঠস্বর না শুনে আপনারা স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার পাবেন বলে আমি মনে করি না। হাজার হাজার নেতাকে দমিয়ে রেখে, অতীতে দেশকে নেতৃত্বদানকারী এবং সরকার গঠনকারী নেতাসহ অনেককে কারাগারে রেখে গণতন্ত্র সফল হবে না।’

সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের ধারাবাহিকতায় ৩৫ (ক) ধারাটি অকার্যকর হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজ্যের (জম্মু ও কাশ্মীর) জনগণকে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া উচিত। এটি এমন একটি বিষয় যেক্ষেত্রে কাশ্মীরিদের আইনসঙ্গত দৃষ্টিকোণ রয়েছে, কারণ এটা তাদের জমি।’

এদিকে জম্মু-কাশ্মীরকে বিশাল বন্দিশিবিরে রূপান্তর করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় বুদ্ধিজীবী অরুন্ধতী রায়। কাশ্মীরিদের সঙ্গে মোদি সরকার দুর্বৃত্তের মতো আচরণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ভারতের স্বাধীনতা দিবসে নিউ ইয়র্ক টাইমসে লেখা নিবন্ধে বুকারজয়ী এই ঔপন্যাসিক দাবি করেছেন, কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণœ করে কুরুচিপূর্ণ পন্থায় তা উদযাপন করছে ভারত।

নিবন্ধে তিনি লেখেন, ‘ব্রিটিশ প্রথা অনুযায়ী টেবিল চাপড়ে আইনটি পাস হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে ভারতের পার্লামেন্ট। রাজ্যটির আইনি স্বীকৃতি বাতিল করার অর্থ হলো অনুচ্ছেদ ৩৫ (এ)ও বিলুপ্ত করা। এর আওতায় এতদিন কাশ্মীরি বাসিন্দাদের অধিকারের স্বীকৃতি ছিল এবং নিজেদের এলাকার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই ছিল। সুতরাং ‘ব্যবসায়ের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে’ এ কথাটির মানে স্পষ্ট করতে হবে। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে ইসরায়েলি ধাঁচের বসতি স্থাপন ও তিব্বতের ধাঁচে জনসংখ্যা স্থানান্তরের মতো বিষয়গুলোও।’