১০ বছর অর্থমন্ত্রী থাকাকালে কখনো জিপ গাড়িতে চড়তে দেখা যায়নি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে। সংসদ সদস্য হিসেবে গত পাঁচ বছর নেননি শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আমদানির সুযোগ। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়া এবং মন্ত্রী না হওয়ার পর তিনি শুল্কমুক্ত সুবিধায় টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার-ভি৮ মডেলের বিলাসবহুল জিপ গাড়ি আমদানির সুযোগ পেলেন। তার আমদানি করা গাড়ি বিনা শুল্কে ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) হতে শতভাগ অব্যাহতি দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিশেষ আদেশ জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারে অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান মুহিত। ২০১৪ সালেও শেখ হাসিনার সরকারে একই দায়িত্ব পান তিনি।
এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস নীতি) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, সাবেক অর্থমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিতের আমদানি করা একটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার স্টেশন ওয়াগন জিপ শুল্কমুক্ত সুবিধায় ছাড়করণের জন্য জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে একটি সুপারিশ অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের মাধ্যমে এনবিআরে পাঠানো হয়েছে। পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তিনি দশম জাতীয় সংসদের সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমান ১১তম জাতীয় সংসদে পুনর্নির্বাচিত হননি। সে পরিপ্রেক্ষিতে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা প্রাপ্য না হলেও বাস্তবিক অবস্থার নিরিখে এ ধরনের সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি যথাযথ কর্র্তৃপক্ষ অনুমোদন করেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনটি শর্তে সমুদয় আমদানি শুল্ক, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক হতে অব্যাহতি দিয়ে গাড়িটি খালাস দিতে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের কমিশনারকে বিশেষ আদেশটি পাঠানো হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মন্ত্রী থাকাকালে আবুল মাল আবদুল মুহিতকে সবসময়ই সরকারের পরিবহন পুলের প্রাইভেট কার ব্যবহার করতে দেখা গেছে। তিনি জিপ গাড়ি ব্যবহারে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন না। সংসদ সদস্যদের বেশিরভাগই বিনা শুল্কে টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার-ভি৮ মডেলের গাড়ি আমদানি করলেও মন্ত্রী থাকাকালে মুহিত এ সুবিধা নেননি।
যে তিনটি শর্তে গাড়িটি বিনাশুল্কে খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছেÑ আমদানি করা গাড়িটি আমদানির পরের পাঁচ বছরের মধ্যে অন্যত্র হস্তান্তর বা বিক্রি করা যাবে না। তবে শর্ত থাকে যে, গাড়ি আমদানির পর পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার আগে গাড়িটি হস্তান্তর বা বিক্রি করতে হলে তা হস্তান্তর বা বিক্রির আগে এই অনুমোদনের আওতায় অব্যাহতি পাওয়া সমুদয় শুল্ককর সংশ্লিষ্ট শুল্ক ভবনের কমিশনারের কাছে পরিশোধ করতে হবে। গাড়ির রেজিস্ট্রেশন হস্তান্তর বা বিক্রির ক্ষেত্রে এনবিআরের কাছ থেকে আগাম সম্মতি নিয়ে তা সংশ্লিষ্ট শুল্ক ভবনে দাখিল করতে হবে। এছাড়া গাড়ি আমদানির তারিখের পরের পাঁচ বছরের মধ্যে আমদানিকারক মারা গেলে তার উত্তরাধিকারদের কোনোরূপ শুল্ককর পরিশোধ করতে হবে না। তবে গাড়ি মূল আমদানিকারকের উত্তরাধিকারদের নামে নাম পরিবর্তন ছাড়া অন্য কারও নামে হস্তান্তর বা বিক্রি করতে হলে অব্যাহতি পাওয়া পুরো শুল্ককর গাড়ি হস্তান্তর বা বিক্রির আগে সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারের কাছে পরিশোধ করতে হবে।
এনবিআরের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া জানান, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের আবেদনটি বেশ আগে করা ছিল। আগের সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া গত পাঁচ বছর মন্ত্রী থাকাকালে তিনি শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আমদানির সুযোগ নেননি।