শান্ত-ইয়াসিরের ব্যাটে সিরিজে সমতা ফেরাল ইমার্জিং দল

প্রথম ম্যাচটা খুব বাজেভাবে হেরেছিল বাংলাদেশ ইমার্জিং দল (এইচপি)। বুধবার শ্রীলঙ্কা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় আনঅফিশিয়াল ওয়ানডে ম্যাচটা স্বাগতিকদের জন্য ছিল বাঁচা মরার। বিকেএসপিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি অবশ্যতে অবশ্য জয় তুলে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে এখন ১-১ সমতা।

এদিন শ্রীলঙ্কার দেওয়া ২৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে ১৮৬ রানের বড় হারের কারণ ছিল ব্যাটিং ব্যর্থতা। এদিন অধিনায়ক শান্ত ও ইয়াসির আলী দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করলেন। তাতেই জয়ের ভিত পাওয়া ইমার্জিংদের। যদিও এই দুজনের বিদায়ের পর কিছুটা শঙ্কাও জেগেছিল। সেই শঙ্কা জয় করেই শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিক দল।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম (৫) ফিরে যান দ্রুত। তিন নম্বরে নেমে শান্ত জুটি বাঁধেন সাইফ হাসানের সঙ্গে। শুরুর ধাক্কা সামাল দেন দুজন। আগের ম্যাচে ফিফটি করা সাইফ অবশ্য এদিন ২৭ রানের বেশি করতে পারেননি। তবে শান্ত তুলে নেন ফিফটি। চারে নেমে দারুণ ব্যাট করেছেন ইয়াসির।

দুজনে তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ১২০ রান। শিরান ফার্নান্দোর শিকার হওয়ার আগে শান্ত ৭৭ রান করেন। তার ৮৮ বলের ইনিংসে ছিল ৯ চার ও ১ ছক্কা। ইয়াসির সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েও পারেননি। ৯৩ বলে ৩ চার ও ৫ ছক্কায় ৮৫ রান করেন তিনি। ৪৩তম ওভারে ইয়াসির যখন ফেরেন তখন জয়ের জন্য আরো ৪৭ রান দূরে দল।

৬ উইকেট হাতে থাকায় জয়টা খুব কঠিন হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়টা কঠিন করে ফেলে বাংলাদেশ। নাঈম হাসান অপরাজিত ৯ ও ইয়াসিন আরাফাত অপরাজিত ১২ রানে দলের জয় নিশ্চিত করেন। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। হাতে ২ উইকেট। দুই ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দেন ইয়াসিন আরাফাত।

আফিফ হোসেন ১৮ ও জাকির আলী ১১ রান করেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বাধিক ২টি করে উইকেট নেন শিরান ফার্নান্দো ও জিহান দানিয়েল।

এরআগে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে শ্রীলঙ্কা। দুই বল বাকি থাকতে অলআউট হওয়ার আগে ২৭৩ রানের সংগ্রহ পায় তারা। অতিথি দলটির হয়ে সর্বোচ্চ ৬৫ রান করেন পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নামা কামিন্দু মেন্ডিস। ৫৫ রান করেন পাথুম নিসানকা। অন্যদের মধ্যে অধিনায়ক চ্যারিথ আসালঙ্কা ৪৫ ও জিহান দানিয়েল ৪৩ রান করেন।

বাংলাদেশ দলের বোলারদের মধ্যে ৫১ রানে ৩ উইকেট নেন শফিকুল ইসলাম। জোড়া উইকেট নেন অফস্পিনার নাঈম হাসান। ১টি করে উইকেট নেন সুমন খান, আমিনুল ইসলাম ও ইয়াসিন আরাফাত।

ম্যাচসেরা হয়েছেন ইয়াসির আলী। দল দুটির মধ্যকার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে হবে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে। শানিবারের ম্যাচটি এখন সিরিজ নির্ধারণী।