কাজের সন্ধানে বিদেশে যাওয়ার সময় কিংবা বিদেশ থেকে দেশে আসার পথে বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের হয়রানি বাড়ছে। এমনকি ফ্লাইটের ভেতরেও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে প্রবাসীদের। আগমন ও বহির্গমনের সময় বিমানবন্দরে প্রবাসীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখা ছাড়াও তাদের ব্যাগ ও লাগেজ নিয়ে হয়রানি বাড়ছে। এ অবস্থা থেকে প্রবাসীদের সুরক্ষা দিতে বিমানবন্দরের কর্মীদের নজরদারিতে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসসহ যেসব এয়ারলাইনসে প্রবাসী কর্মীরা বেশি যাতায়াত করেন, সেসব এয়ারলাইনসের কর্মীদের আচরণগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের হয়রানি বন্ধে আরও করণীয় নির্ধারণে শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক হবে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিদেশগামী ও প্রত্যাগত কর্মীদের বিমানবন্দরে হয়রানি প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, যারা তাদের সব অর্জন দেশে পাঠান, তাদের প্রতি এ আচরণ দুঃখজনক এবং এজন্য সবার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। এজন্য কেবিন ক্রুদের আচরণগত প্রশিক্ষণ দেওয়া, বিমানবন্দরে শ্রমিকদের সহায়তা দেওয়ার জন্য সেবাকর্মীর সংখ্যা বাড়ানো ও ব্যাগেজ নিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগের সময় সংশ্লিষ্টদের আচরণ মনিটরিং করার ওপর জোর দেওয়া হবে।
বিদেশি এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রুরা সাধারণত অন্য দেশের হয়ে থাকেন। ফলে প্রবাসী কর্মীদের পক্ষে তাদের সঙ্গে সঠিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না। এ প্রেক্ষাপটে বিদেশি এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রুদের মধ্যে বাংলাদেশি প্রতিনিধি রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রবাসীদের বিমানবন্দর ব্যবহারে হয়রানি বন্ধে বিমানবন্দরে কর্মরত সংশ্লিষ্ট স্টাফ ও কেবিন ক্রুদের আচরণ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বাংলাদেশ বিমানের ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করা হবে।
বিমানবন্দরে শ্রমিকদের সহায়তা দেওয়ার জন্য সেবাকর্মীর সংখ্যা বাড়ানো হবে। হেল্প ডেস্কও আরও শক্তিশালী করা হবে। এজন্য সাংগঠনিক কাঠামোতে প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি করা হবে। হেল্প ডেস্কের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।
কোনো প্রবাসী হয়রানির অভিযোগ করলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ভিডিও ফুটেজ মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ব্যাগেজ নিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগের সময় কোনো কর্মী হয়রানি বা বাজে আচরণের শিকার হচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, শ্রমিকরা বিমানবন্দর ব্যবহার সম্পর্কে অভ্যস্ত নন। তাছাড়া তাদের বেশিরভাগই শিক্ষিত নন। তাই বিমানবন্দরে ঢোকার পর তাদের সহায়তা করা প্রয়োজন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের হয়রানি হতে হচ্ছে। বিমানের ভেতরেও কেবিন ক্রুরাও তাদের সঙ্গে যৌক্তিক আচরণ করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় কেবিন ক্রুদের শোভন আচরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর জোর দেন তারা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বিভিন্ন এয়ারলাইনসের কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষ সচেতন করতে পারে। বিমানবন্দরে আগমন ও বহির্গমনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় প্রবাসী কর্মীদের অপেক্ষমাণ রাখা হয়, যা নিরসন হওয়া প্রয়োজন।
ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ জুলহাস বলেন, প্রবাসী কর্মীদের হয়রানি বন্ধে বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডেটাবেইজের সঙ্গে বিএমইটির ডেটাবেইজের সম্পৃক্ত করা জরুরি বলে মত দেন তিনি।
বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিমানবন্দরে অবকাঠামো ও বিমান চলাচলের দায়িত্বে এ মন্ত্রণালয় থাকলেও ইমিগ্রেশনের দায়িত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ব্যাগেজ চেকিংয়ের দায়িত্ব কাস্টমস কর্র্তৃপক্ষ পালন করে। ভুক্তভোগীরা বিমানবন্দরে দায়িত্বরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে অভিযোগ করলে প্রতিকার পেতে পারেন।