শেরপুরে পারিবারিক কলহের জের ধরে বাবা মুসলিম উদ্দিনের দায়ের কোপে ছেলে শফিকুল ইসলাম নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পা্ওয়া গেছে। শনিবার সকালে সদর উপজেলার চরমোচারিয়া ইউনিয়নের ধাতিয়াপাড়া গ্রামে একটি ধানক্ষেতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মুসলিমকে আটক করেছে। অভিযুক্ত মুসলিম একজন অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষী। শফিকুল ছিলেন মুসলিমের প্রথম স্ত্রী মৃত সবুজা বেগমের ছেলে।
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, টাকাপয়সা ও জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম উদ্দিনের সঙ্গে তার ছেলে শফিকুলের দ্বন্দ্ব ও পারিবারিক কলহ চলে আসছিল।
এর জের ধরে আজ সাড়ে ৯টার দিকে শফিকুল ওই ধানক্ষেতে গেলে তার বাবা মুসলিম উদ্দিন আকস্মিকভাবে ধারালো দা দিয়ে তার উপর আক্রমণ করেন এবং ঘাড়ে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাত করলে শফিকুল ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
ঘটনার পরই মুসলিম পালিয়ে যায়। তবে সদর থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে মুসলিম উদ্দিনসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
নিহত শফিকুলের স্ত্রী রোজিনা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী টাকা ও জমিজমা ভাগ করে দেওয়ার জন্য শ্বশুরকে বললে শ্বশুর টাকাপয়সা দিবে বলে জানিয়ে দেয়।’
তিনি বলেন, ‘এজন্য শুক্রবার বুদ্ধি করছে এবং শনিবার সকালে দা দার দিছে। সকালে আমি ও আমার স্বামী ভাত খাই। এরপর স্বামী ধানক্ষেতে যায়। সেখানে যাওয়ার পর পেছন থেকে শাশুড়ি মলেদা বেগম ও ননদ মেরি আক্তার ধরে ফেলে এবং আমার শ্বশুর দা দিয়ে ঘাড়ের মধ্যে কুপ মারে।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ (প্রশাসন) বিল্লাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে বাবা মুসলিম উদ্দিন, সৎমা মলেদা বেগম ও সৎবোন মেরি আক্তারকে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।