সাভারে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার বাইপাইল এলাকার ফল ব্যবসায়ী গৌতম দাসের ছেলে অজয় (২৫) ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শনিবার দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
নিহত অজয় দাস চাঁদপুর জেলার মতলব থানার সুজাতপুর গ্রামের গৌতম দাসের ছেলে।
নিহতের পিতা ফল ব্যবসায়ী গৌতম দাস জানান, গত ২০ আগস্ট তার ছেলে অজয় দাস জ্বরে আক্রান্ত হলে প্রথমে তাকে স্থানীয় পলাশবাড়ি এলাকার হাবিব ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকলে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়। পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষা করা হলে তার শরীরে ডেঙ্গুর জীবাণু শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু জ্বরের ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় তাকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা অজয়ের শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় নিবির পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউতে) ভর্তি করেন এবং শনিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরপর বিকেলে নিহতের মরদেহটি সৎকারের জন্য গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নাজমুল হুদা মিঠু বলেন, এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭৩ জন রোগী ভর্তি হয়। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে ভালো হয়ে বাড়ি চলে গেছে ৪৩জন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে ২৩ জনকে। বর্তমানেও স্বাস্থ্য পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে ৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এনিয়ে এখন পর্যন্ত সাভারে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিন রোগীর মৃত্যু হলো। গত ২২ আগস্ট সাভারের টঙ্গাবাড়ি এলাকার মাফি ইসলামের ছেলে প্রাইভেটকার চালক মো. হানিফ (৩৯) ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
এর আগে গত ২৯ জুলাই এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে জুয়েল মাহমুদ নয়ন (৩৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। একই রোগে সাভারে সর্বপ্রথম উখিংনু রাখাইন (১৯) নামে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী মারা যায়।