পারকি সৈকতে অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্র সৈকতে অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য বেড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন। যাদের অধিকাংশই সৈকতে আসা পর্যটক। বাদ পড়ছে না স্থানীয় বাসিন্দারাও। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের নাকের ডগায় অপরাধ সংঘটিত হলেও তারা থাকে নির্বিকার।

গত শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় পারকি বাজারের এক দোকানে মুরগি কিনতে যায় পর্যটক বেশে সৈকতে আসা অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। তাদের চাহিদা মতো আবদুল মন্নান (৪৫) নামের ওই দোকানি চারটি মুরগি ওজন দিয়ে জবাই করার সময় চেতনানাশক স্প্রে করে তাকে অচেতন করে দোকানের ক্যাশ লুট করে নেয় তারা। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর আবদুল মন্নানের জ্ঞান ফেরে বলে জানিয়েছে তার পরিবারের লোকজন।

এ ঘটনার পর চক্রটি অটোরিকশা নিয়ে চলে যাওয়ার সময় সিইউএফএল হাউজিং কলোনির সামনে পৌঁছালে ভাড়ায়চালিত গাড়ি ভেবে এক স্কুলছাত্র (১২) ওই গাড়িকে সিগন্যাল দেয়। এরপর তাকে গাড়িতে তুলে অচেতন করে নিয়ে যায় চট্টগ্রাম নগরীর শাহ আমানত সেতু এলাকায়। সেখানে একটি পরিত্যক্ত গুদামঘরে ওই শিশুকে তালাবদ্ধ করে রেখে অন্যত্র চলে যায় এই চক্র। কিছুক্ষণ পর শিশুটি চেতনা ফিরে পেয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তালা ভেঙে শিশুটিকে উদ্ধার করে বাড়ি পাঠায়।

ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের কেউ ভয়ে, কেউ বা ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কায় মামলা করেননি।

তবে পুলিশ বলছে, এমন ঘটনায় মামলা করলে অপরাধীদের ধরতে সুবিধা হয়। এতে দ-বিধির ৩২৮ ধারায় মামলা হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. লক্ষ্মীপদ দাশ জানান, অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়া ব্যক্তির হৃদরোগ ও কিডনিতে সমস্যা থাকলে তার মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে।

পারকি সৈকতের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহ আলম সুমন বলেন, সৈকত এলাকায় অপরাধ দমনে পুলিশের সর্বাত্মক চেষ্টা রয়েছে। তাছাড়া সৈকতে আসা লোকজনের ভিড়ে কে পর্যটক কে দুষ্কৃতকারী তা বুঝা মুশকিল।