কদমতলা সংসদের হয়ে তৃতীয় বিভাগে খেলা নিয়ে নজর কাড়েন প্রিমিয়ার লিগের দল সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের। সদ্য শেষ হওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে চতুর্থ হওয়া দলটির হয়ে অভিষেক হয়েছিল এই ডিফেন্ডারের। লেফটব্যাক পজিশনে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কারটা ইয়াসিন আরাফাত পেয়েছেন জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাওয়ার মধ্য দিয়ে। ইংলিশ কোচ জেমি ডে’র পাঠশালায় প্রথম দিনের পাঠও নিয়ে ফেলেছেন ১৯ বছরের এই তরুণ। অভিজ্ঞদের পেছনে ফেলে ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দলে নাম লিখানোটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আরাফাতের কাছে। আর সেই চ্যালেঞ্জটা নিতে প্রস্তুত তিনি।
গতকাল ডাক পাওয়া ২৬ ফুটবলারের মধ্যে ১৯ জনকে নিয়ে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের অনুশীলন শুরু করেন জেমি ডে। দল নিয়ে তাজিকিস্তানের যাওয়ার আগেই সংখ্যাটা ২৩-এ নামিয়ে আনবেন কোচ। সেই ২৩-এ জায়গা করাটাই ইয়াসিনের লক্ষ্য এখন। যদিও এত কম সময়ের ব্যবধানে জাতীয় দলের মঞ্চে চলে আসার ঘোরটা এখনো রয়েই গেছে এই তরুণের চোখে-মুখে। সেটা না লুকিয়েই বললেন, ‘আমি সত্যি ভাগ্যবান যে এত তাড়াতাড়ি জাতীয় দলে ডাক পেয়েছি। তৃতীয় বিভাগে খেলে সাইফে গত মৌসুমে নাম লিখাই। বিশ্বাস ছিল একদিন জাতীয় দলে আসব। কিন্তু সেটা এত তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে ভাবিনি।’
সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবে আরাফাত খেলেন লেফট ব্যাক পজিশনে। ওভারল্যাপ করে বামদিক দিয়ে লিগে সাতটি গোলও করিয়েছেন তিনি। নিয়মিত আক্রমণে উঠে ফরোয়ার্ডদের সহায়তা করার অভ্যাসটা ভালোই আছে তার মধ্যে, ‘রক্ষণে খেললেও আক্রমণে উঠতে আমার ভালো লাগে। লিগে আমি সাতটি গোল করিয়েছি। এর মধ্যে চারটি কর্নার থেকে।’ সাইফের হয়ে নিয়মিতই খেলার সুযোগ পেয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন আরাফাত, ‘সরাসরি তৃতীয় বিভাগ থেকে প্রিমিয়ারে সুযোগ পাওয়াটা ছিল স্বপ্নের মতো। সেই সঙ্গে একটা সুযোগও। চেষ্টা করেছি কোচের নির্দেশনা মেনে নিজের উন্নতি করার। সেটা পেরেছি বলেই নিয়মিত খেলার সুযোগ পেয়েছি।’
জাতীয় দলে প্রতিষ্ঠিত হতে তাকে লড়াই করতে হবে একঝাঁক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সঙ্গে। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন আরাফাত, ‘চ্যালেঞ্জ নেওয়াটা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে অনেক অভিজ্ঞরা খেলছেন। চেষ্টা করব সামর্থ্যর সেরাটা দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে। বিগ ম্যাচের চ্যালেঞ্জটা জিততে পারলে আশা করছি অনেক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাব।’
প্রথম দিন শিষ্যদের নিয়ে প্রায় দু’ঘণ্টা সময় কাটিয়েছেন জেমি ডে। ৩ আগস্ট লিগ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ বিশ্রামে ছিলেন খেলোয়াড়রা। এই সময়টায় ফিটনেসে তেমন অবনতি না ঘটায় খেলোয়াড়দের প্রশংসাই করেছেন এই কোচ, ‘প্রথমদিন খেলোয়াড়দের দেখে বেশ খুশি। তাদের ফিটনেসের অবস্থা ভালো। অফ সিজনে তাদের যে ট্রেনিং সিডিউল দেওয়া হয়েছিল, বোঝা গেল সেটা তারা অনুসরণ করেছেন। তাছাড়া সারা মৌসুম ক্লাবগুলোতেও খুব ভালো ফিটনেস প্রোগ্রাম হয়। আমি আজ যে ট্রেনিং করিয়েছি, তাতে খেলোয়াড়দের ফিটনেসে কোনো ঘাটতি দেখিনি।’