চা দোকানির মেয়ে বলে ধর্ষণের মামলা হলো না, বিয়েও হলো না

সিদ্ধিরগঞ্জে এক চা দোকানির কিশোরী মেয়েকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা বা বিয়ে কিছুই হয়নি।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক মহসিনকে (২০) আটক করেও ছেড়ে দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় শনিবার রাত ১১টায় নয়াআটি মুক্তিনগর এলাকা থেকে ওই যুবককে আটক করেও ছেড়ে দেয় পুলিশ।

মহসিন ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকে। ভুক্তভোগী মেয়েটি স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী বলে জানা গেছে।

কিশোরীর মা ও বাবা সাংবাদিকদের অভিযোগে জানান, বিয়ে করার কথা বলে তাদের মেয়েকে দুই বছর ধরে ধর্ষণ করে আসছে মহসিন। শনিবার বিকেলেও সে ধর্ষণ করতে গেলে এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়ে। তখন দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। রাত ১০টার দিকে বিয়ে পড়াতে কাজি আসার পর মহসিন ও তার পরিবার বিয়েতে অমত পোষণ করে। এ নিয়ে শুরু হয় হট্টগোল। দেখা দেয় উত্তেজনা। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক বেলায়েত হোসেন এসে অভিযুক্ত ধর্ষক মহসিন ও ওই ছাত্রীকে থানায় নিয়ে যায়।

তবে অভিযুক্ত মহসিনের বাবা ও ডিপিডিসি কর্মকর্তা বলেন, চা দোকানির মতো এত নিচু পরিবারের মেয়ের সঙ্গে আমার ছেলের বিয়ে দেব না। ছেলেকে পুলিশ আটক করলেও আদালত থেকে জামিনে ছাড়িয়ে নিয়ে আসব। টাকা হলে সবই সম্ভব। 

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)  কামরুল ফারুক জানান, অভিযুক্ত মহসিনকে রাতেই আটক করা হয়েছিল। মেয়ের বাবা মামলা করতে ইচ্ছুক না। রোববার দুপুরে উভয়ের অভিভাবক  থানা এসে বিয়ের মাধ্যমে মীমাংসা করার কথা বলে ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে গেছে।

তবে কিশোরীর বাবা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ওসি শুরুতেই তাদের ধমক দেন। চা দোকানি বলে কটাক্ষ করেন। মেয়ের মাকে 'শয়তান' বলে সম্বোধন করেন। অন্যদিকে ছেলের পরিবারের পক্ষ থেকেও মামলা না করার হুমকি দেওয়া হয়।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, শনিবার সারা রাত থানায় তাদের বসিয়ে রাখায় হয়। এরপর রোববার দুপুর ১২টার পর ওসি থানায় আসেন।  

তবে রোববার রাত পর্যন্ত কিশোরী ও অভিযুক্ত মহসিনের বিয়ে হয়নি। থানায় বিয়ের কথা বললেও মহসিনের পরিবার হুমকি দিয়ে চলে গেছে।

স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলকে দিয়ে কিশোরীর পরিবারকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ জানা গেছে।