ময়লা আবর্জনার প্রতিকার কোথায়

খুলনা শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ খানজাহান আলী রোড। এই সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থান পিটিআই মোড়। মোড়ের আশপাশে সরকারি ও বেসরকারি বেশ কিছু বিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই মোড় অতিক্রম করে তাদের প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। পথচারীরা সেখান দিয়ে চলতে গেলে নাক চেপে ধরে বা রুমাল ঠেসে কিংবা দমবন্ধ করে দৌড়ে পার হয়। কারণ সেখানে রয়েছে ময়লা-আবর্জনার বিশাল স্তূপ।

অন্যদিকে দিনের বেলাতেই রাস্তায় লোক চলাচলের সময় সেখান থেকে সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) গাড়ি ময়লা সংগ্রহ করে; উৎকট দুর্গন্ধ ছড়িয়ে ছুটে চলে আবর্জনাবাহী ট্রাক রাজবাঁধ এলাকার ফাইনাল ডাম্পিং পয়েন্টের দিকে। শহরে এ রকম আরও কয়েকটি ময়লা স্তূপীকরণের স্থান রয়েছে।

শহর ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ স্থানে ডাস্টবিনের সামনে ছোট একটি দেয়াল রয়েছে। তার মধ্যে ময়লা ফেলার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। সড়কের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হচ্ছে বর্জ্য। নগরের খালিশপুর, নতুনবাজার, জিলা স্কুলের সামনে, কদমতলা, পিটিআই মোড়, নিরালা বাজার, খুলনা সিটি ইমেজিং সেন্টারের পাশে ও তেঁতুলতলার মোড় এলাকায় বর্জ্য পড়ে থাকে দুপুর পর্যন্ত। এসব জায়গার বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। সড়ক দিয়ে লোকজন মুখে রুমাল চেপে চলাচল করে।

কেসিসির একটি সূত্র জানায়, খুলনা শহরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০০ টনের মতো বর্জ্য জমা হয়। বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগৃহীত হয় বলে শহরে এখন আর কোনো ডাস্টবিন চোখে পড়ে না। ময়লা সংগ্রহকারীরা নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে আবর্জনা

স্তূপ করে। এই স্থানগুলোকে বলা হয় সেকেন্ডারি ডাম্পিং পয়েন্ট। এখান থেকেই আবর্জনাগুলো করপোরেশনের গাড়িতে করে নিয়ে ফেলা হয় রাজবাঁধের শেষ ডাম্পিং পয়েন্টে। মেডিকেল বর্জ্যও ফেলা হয় ওই রাজবাঁধে।

বেসরকারি উদ্যোগে নগরীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নবারুণ সংসদ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ নেওয়াজ টিপু বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নাগরিকদের মানসিকতার সঙ্গে যুক্ত। আমরা নাগরিকরা এ ব্যাপারে সচেতন নই। আমরা ময়লা-আবর্জনা থেকে মুক্ত থাকতে চাই। কিন্তু নিজেরাই ড্রেনে আবর্জনা ছুড়ে ফেলি।’

পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়ক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘শহরে বর্জ্য ফেলার কোনো নির্দিষ্ট জায়গা নেই। এ কারণে ময়লা যেখানে-সেখানে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সূর্য ওঠার আগে নিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু নেয় দুপুরবেলায়। তখন দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে মারাত্মকভাবে পরিবেশের দূষণ ঘটে।’

কেসিসির জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা করপোরেশন নির্ধারিত স্থানে জমা করা হবে। সেখান থেকে করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্তরা সেগুলো নিয়ে ফেলবে নির্দিষ্ট স্থানে। বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহের জন্য ১৯৯৮ সালের দিকে খুলনায় বেসরকারি উদ্যোগ যুক্ত হয়। এরা প্রধানত নির্দিষ্ট কয়েকটি ওয়ার্ডের বাসাবাড়ি থেকে গৃহস্থালি আবর্জনা সংগ্রহ করে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জমা করে। এ জন্য প্রতিটি ফ্ল্যাট-বাসাবাড়ি থেকে মাস হিসেবে অর্থ সংগ্রহও করা হয়। তবে সব ওয়ার্ডে এখনো এই উদ্যোগ কার্যকর হয়নি।’

কেসিসির কনজারভেন্সি বিভাগের প্রধান আনিসুর রহমান বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আগের চেয়ে অনেক ভালো। কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তবে তা দ্রুতই কাটিয়ে উঠব। আমরা সেকেন্ডারি ডাম্পিং পয়েন্টগুলো উন্নত করার চেষ্টা করেছি। জায়গার অভাবে সব তৈরি করা যায়নি। নিরালা এলাকায় জায়গা না পাওয়ায় সেখানে ময়লার স্তূপ রাস্তার পাশেই জমে উঠছে। এখন বেশ কিছু এলাকার কাজ রাতে শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে আমরা সব ময়লা-আবর্জনা রাতেই পরিবহন করব।’