সহপাঠীর ধর্ষণের পর মারা গেলেন কলেজছাত্রী

নেত্রকোনায় সহপাঠী ও আত্মীয়র সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছন কলেজছাত্রী ইয়াসমিন (২২)। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে দুদিন থাকার পর গত রবিবার সকালে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি নেত্রকোনা আবু আব্বাছ ডিগ্রি কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। গত বুধবার বিকেলে নেত্রকোনা পূর্বধলা বাজারে বই কিনতে গিয়েছিলেন ওই ছাত্রী। সেখান থেকে সহপাঠী আলমগীর (২৪) বেড়ানোর কথা বলে তাকে ময়মনসিংহের তারাকান্দায় নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এরপর শ্যামগঞ্জ রেলক্রসিং এলাকায় ফেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। আলমগীরকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ইয়াসমিন নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার খামারহাটি (কোনাপাড়া) গ্রামের খোরশেদ আলমের মেয়ে। আলমগীর নেত্রকোনা সদর উপজেলার শ্রীপুর বালী গ্রামের মৃত হাশেম উদ্দিনের ছেলে। সে ওই কলেজছাত্রীর ফুফুর দেবরের ছেলে বলে জানা গেছে। 

ইয়াসমিনের মা নাছিমা খাতুন বলেন, গত ২১ আগস্ট বুধবার আমার মেয়ে ইয়াসমিন শ্যামগঞ্জ বাজারে বই কেনার কথা বলে বের হয়। পরে ওই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় আত্মীয়স্বজনসহ অনেক খোঁজাখুঁজি করার পর আর পাওয়া যায়নি। পরের দিন সকালে পরিচয় না দিয়ে এক নারী মোবাইল ফোনে জানায় শ্যামগঞ্জ রেলক্রসিং এলাকায় অসুস্থ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে আমার ভাই কালাম ওই মহিলাকে জিজ্ঞেস করলে ওই স্থান থেকে আলমগীরসহ দুজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হয় ইয়াসমিনকে। দুদিন হাসপাতালে আইসিইউতে থাকার পর রবিবার সকালে তার মেয়ে মারা যায়।

তিনি আরও বলেন, উদ্ধারের সময় ইয়াসমিন বলেছে আলমগীর তাকে মোটরসাইকেলে বেড়ানোর কথা বলে তারাকান্দায় এক বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে কোক খাওয়ালে পরে চোখে ঘোলা দেখতে পায় ও কয়েকজনের সহযোগিতায় আটকে রেখে ধস্তাধস্তি করে ধর্ষণ করে বলে জানায়। জ্ঞান হারিয়ে ফেললে আর কিছু জানা যায়নি।

ইয়াসমিনের মামা আবুল কালাম আজাদ জানান, ইয়াসমিন তার পরিবারে বড় সন্তান ছিল। সে নেত্রকোনা আবু আব্বাছ ডিগ্রি কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। ইয়াসমিনের বাবা কৃষক ও পারিবারিকভাবে সচ্ছল না হলেও মেয়ের পড়াশুনার আগ্রহী ছিল বলে তাকে ওই কলেজে ভর্তি করে লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে আসছিলেন। তার পিতা বেশ কিছুদিন পায়ে আঘাত পেয়ে এখন কাঁপতে কাঁপতে হাঁটেন। বাবার ইচ্ছে ছিল মেয়েকে শিক্ষিত করে ভালো ঘরে বিয়ে দেবেন। কিন্তু তার আর হলো না।

পূর্বধলা থানার ওসি মো. তাওহীদুর রহমান গতকাল বিকেলে বলেন, নিহতের মা রবিবার রাতে থানায় জানালে রবিবার রাতেই আলমগীরকে শ্রীপুর বালী গ্রাম থেকে আটক করা হয়। আসামি প্রাথমিকভাবে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তাকে বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন চাওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কোকের সঙ্গে ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে পান করালে মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে যায়। একাধিকবার ধর্ষণ ও ধর্ষণের সময় ধস্তাধস্তিতে ইয়াসমিন আঘাতপ্রাপ্ত হয়। হাসপাতাল ও সুরতহাল সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে ।