পার্লামেন্ট মুলতবির ডাক জনসনের

পার্লামেন্টের অধিবেশন মুলতবি করতে রানীকে অনুরোধ করেছে ব্রিটিশ সরকার। সেপ্টেম্বরে এমপিরা গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটিয়ে ফেরার পরদিনই যাতে পার্লামেন্ট মুলতবি করা হয় এমন অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

পার্লামেন্ট মুলতবির পর ১৪ অক্টোবর রানী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এর মানে চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট প্রস্তাব পাসের জন্য এমপিরা সময় পাচ্ছেন না। হাউজ অব কমন্সের স্পিকার জন বারকাউ এই ঘটনাকে ‘সাংবিধানিক অবমাননা’ বলে অভিহিত করেছেন।

হাউজ অব কমন্সের স্পিকার সাধারণত রাজনৈতিক ঘোষণা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেন না। তারপরও তিনি বলেছেন, ‘যদিও পুরো ব্যাপারটাই পোশাকি, এটা নিশ্চিত যে পার্লামেন্টের অধিবেশন মুলতবির মাধ্যমে ব্রেক্সিট নিয়ে এমপিদের বিতর্ক বন্ধ হয়ে যাবে এবং দেশকে নতুন দিশায় নিয়ে যাওয়ার কার্যক্রমও ব্যাহত হবে।’

টোরির জ্যেষ্ঠ নেতা ডমিনিক গ্রিভ পার্লামেন্ট মুলতবির অনুরোধকে একটি ‘আপত্তিকর কর্মকা-’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। তার মতে, এমন সিদ্ধান্ত অনাস্থা ভোটের জন্ম দেবে, যাতে এই সরকারের পতন হতে পারে। যদিও বরিস জনসন বলেছেন, তিনি ব্রেক্সিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাইছেন না সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে।

জনসন বলেন, ‘আমাদের নতুন নীতিমালা প্রয়োজন। নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আমাদের দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আর এ কারণেই আমরা চাইছি রানীর ভাষণ অনুষ্ঠিত হোক।’ পার্লামেন্ট মুলতবি করার এ পরিকল্পনাকে বলা হয় স্থগিতকরণ, যা ইতোমধ্যেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে এমপিরা ব্রেক্সিট ইস্যুতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের ভূমিকা পালন করতে পারবেন না। এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন মেজরসহ অনেকে ব্রিটিশ সরকারকে হুমকি দিয়ে বলেছেন যে, তারা প্রয়োজনে পার্লামেন্ট মুলতবির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে যাবেন। এসএনপির আইনবিষয়ক মুখপাত্র জোয়ানা চেরি ইতোমধ্যেই স্কটিশ আদালতে বিষয়টি তোলার পাঁয়তারা করছেন বলেও জানিয়েছে বিবিসি। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন জানান, তিনি অক্টোবরের ৩১ তারিখে চুক্তিসহ ব্রেক্সিট চান। কিন্তু এটা বাঁচা-মরার ব্যাপার হওয়ায় ডেডলাইন চলে যাওয়ার আগেই প্রয়োজনে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট করতে হবে বলেও তিনি বলেন। বিরোধী দল লেবার পার্টির কিছু নেতা চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে একজোট হয়েছেন। গত মঙ্গলবার তারা ঘোষণা দিয়েছেন, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিয়ম অনুসারেই তারা চুক্তিসহ ব্রেক্সিট চান। যদিও চুক্তিসহ ব্রেক্সিটের কোনো বিশদ পরিকল্পনা তারা প্রকাশ করতে পারেননি।

লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন প্রধানমন্ত্রীর পার্লামেন্ট মুলতবির সিদ্ধান্তকে ‘বেপরোয়া’ বলেছেন। এছাড়া তিনি জনসনের ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে নতুন নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যেই হার্ড ব্রেক্সিটের ঝুঁকি নিয়েছে। জনসন যদি চাপ প্রয়োগ করতে চায়, তাহলে যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়াও আরও অনেক কিছু হারাতে হতে পারে। জনসনের নতুন সিদ্ধান্তে প্রেক্ষাপটে ইইউ মনে করছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ব্রেক্সিটের পর আগাম ভোটে জয়লাভের জন্য এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথে হাঁটতে চাইছেন।