শরীয়তপুর পৌরসভায় শারমিন আক্তার (৩০) নামে এক নারী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ঢাকা সেন্টাল হসপিটালের আইসিইউতে থাকা অবস্থায় বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
শারমিন পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের ধানুকা গ্রামের সাংবাদিক জাবেদ শেখের স্ত্রী। জাবেদ শেখ দৈনিক অধিকার পত্রিকার শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি ও স্থানীয় দৈনিক রুদ্রবার্তা পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার।
এ নিয়ে শরীয়তপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চার নারী ও এক পুরুষের মৃত্যু হল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২২ আগস্ট বৃহস্পতিবার হঠাৎ জ্বর অনুভব হয় শারমিনের। জ্বর বাড়তে থাকলে ২৩ আগস্ট শুক্রবার শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হলে সেখানে তাকে ভর্তি করা হয়। পরদিন শনিবার তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করেন তাকে।
ঢাকা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছিল।
পরে অবস্থা আরও খারাপের দিকে গেলে বুধবার সন্ধ্যায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা সেন্টাল হসপিটালে প্রেরণ করেন। সেখানে আইসিইউতে থাকা অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
শারমিনের স্বামী জাবেদ শেখ বলেন, আমার দুই ছেলে তামজীদ (১০) ও তানজীল (৩) । বড় ছেলে পালং তুলাসার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। আমার স্ত্রী শারমিন ও বড় ছেলে তামজীদ একই সঙ্গে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। সন্তান দুটি রেখে ওর মা চিরতরে চলে গেল। এখন বড় ছেলেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে। ছেলের অবস্থাও তেমন ভালো না। সকলের কাছে ছেলের জন্য দোয়া চেয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে স্ত্রীর লাশ ফরিদপুর সদর উপজেলার নরসিংহদিয়া গ্রামে আমার শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। বিকেলে সেখানেই জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হবে।
শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. খলিলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জেলায় এ পর্যন্ত ৪২১ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ১১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে জেলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনেকটা ভালো মনে হচ্ছে। কারণ আগের থেকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমছে।