রোহিঙ্গাদের `অস্ত্র' সরবরাহের অভিযোগ: মুক্তি’র ৬ কার্যক্রম স্থগিত

রোহিঙ্গাদের দেশীয় অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ এনে কক্সবাজারের এনজিও মুক্তি’র ছয়টি কার্যক্রম স্থগিত করতে জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছে এনজিও ব্যুরো।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এমন একটি চিঠি জেলা প্রশাসকের হাতে পৌঁছেছে। এতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কক্সবাজারের স্থানীয় এনজিও মুক্তি রোহিঙ্গাদের জন্য ৬ শতাধিক দেশীয় অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি উঠে আসলে তা সুষ্ঠু তদন্ত করার জন্য ৬টি কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত মুক্তির ছয়টি কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ‘সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের সরবরাহের জন্য তৈরি করা ৬ শতাধিক দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে প্রশাসন। ‘মুক্তি কক্সবাজার’ এনজিও ব্যুরোকে অবগত না করে গোপনে ওই সব অস্ত্র তৈরি করে তা রোহিঙ্গাদের মাঝে সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এতে কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল। তাই ‘মুক্তি কক্সবাজার’র ছয়টি প্রকল্পের সকল ধরনের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত মুক্তির ছয়টি কার্যক্রম স্থগিত থাকবে’।

উল্লেখ্য, গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার কোটবাজার ভালুকিয়া সড়ক থেকে কামারের দোকান থেকে তৈরীর সময় রোহিঙ্গাদের জন্য সরবরাহের ৬ শতাধিক দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেন স্থানীয় প্রশাসন। ‘মুক্তি’ নামের একটি এনজিও এসব তৈরী করছিলেন বলে জানিয়েছেন অভিযানে নেতৃত্বে থাকা উখিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফখলুল ইসলাম জানিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার বিকেলে কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ব্যাখ্যা দেয় এনজিও মুক্তি।

এনজিও মুক্তির প্রধান নির্বাহী বিমল চন্দ্র দে সরকার জানিয়েছেন, ‌মুক্তি কক্সবাজারের পক্ষ থেকে টেকনাফ উপজেলাধীন হ্নীলা ইউনিয়নের ৩ টি ওয়ার্ডে ৬০০ স্থানীয় উপকার ভোগী পরিবারে সবজি চাষ প্রশিক্ষণ পরবর্তী বিভিন্ন ধরনের কৃষি উপকরণ প্রদানের লক্ষ্যে সবজি বীজ, চারা, ভারমিকম পোস্ট সার, পানিরজার ও নিড়ানি সরবরাহের জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে'।

‌'এ বিষয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে গত ২৫ জুলাই মের্সাস কৃষি বিপণি (স্বত্বাধিকারী  মোহাম্মদ আজিজুল হক (ঠিকানা বিমানবন্দর সড়ক মহিলা কলেজের সামনে কক্সবাজার) কে ২৬০০ পিস নিড়ানি, সেক্স ফেরোমনটস্টাপ (গন্ধ যুক্ত কীটনাশক) ২৬০০ পিস এবং নজল (স্পেয়ার) ২৬০০ পিস সরবরাহ করার জন্য কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। প্রকল্পটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক অনুমোদিত হয়।'

'অনুমোদনের কপি যথারীতি এফডি-৭ সহ জেলা প্রশাসক কক্সবাজার, আরআরআরসি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টেকনাফ এবং সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পের সিআইসিদের প্রদান করা হয়। প্রকল্পটির পরিচিতি সভা ৫/৫/২০১৯ তারিখে টেকনাফ ইউএনও’র কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মরত এনজিও এবং হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদকে অবহিত করা হয়। সুতরাং মুক্তি কক্সবাজারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের মাঝে দেশীয় অস্ত্র সরবরাহের যে অপপ্রচার হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন'।