চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার লোকালয়ে থামছে না বন্যহাতির তান্ডব। অব্যাহত তান্ডবে বসতবাড়ি ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। আর একের পর এক বন্যহাতির আক্রমণে দেয়াঙ পাহাড়ের আশপাশ এলাকা পরিণত হয়েছে আতঙ্কের জনপদে।
এবার উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের ফকিরখীল ও বারশত ইউনিয়নের পশ্চিমচাল গ্রামে তা-ব চালিয়ে কয়েকটি বসতঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে বন্যহাতি। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই ঘটনা ঘটে।
এর আগে গত ১৭ আগস্ট বন্যহাতির আক্রমণে তৈলারদ্বীপ এলাকার আবদুল মোতালেব (৬৮) নামে একজন প্রাণ হারান। এ নিয়ে গত এক বছরে হাতির আক্রমণে আনোয়ারায় চারজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। ওই সময় এলাকার বাঁশঝাড়, গাছপালা ও ফসলের ক্ষতিসহ বেশকিছু পাকা দেয়াল ভেঙে চুরমার করে বন্যহাতির পাল। এছাড়া বৈরাগ, বটতলী ও বারশত ইউনিয়নের কোনো না কোনো গ্রামে প্রতিদিনই তা-ব চালিয়ে বসতবাড়ি ও ফসল বিনষ্ট করে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলেও এখনো পর্যন্ত প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
জানা যায়, বছর দুয়েক আগে দলছুট বন্যহাতির পাল উপজেলার বৈরাগ ও বটতলী ইউনিয়নে অবস্থিত দেয়াঙ পাহাড়ে প্রবেশ করে। দিনের বেলায় হাতিরপাল পাহাড়ের উঁচু টিলায় অবস্থান করলেও সন্ধ্যার পরই নেমে আসে লোকালয়ে। রাতভর চালায় তান্ডবলীলা। এ সময় গাছপালা, সবজিক্ষেত ও জমির ফসল মাড়িয়ে সাবাড় করে ফেলে। তাড়াতে গেলেই বাড়িঘরে হামলা চালায়। ফলে এসব এলাকার মানুষের দিন কাটছে শঙ্কায় আর রাত কাটছে নির্ঘুম।
এলাকাবাসী জানায়, লোকালয়ে বন্যহাতি দফায় দফায় তান্ডব চালিয়ে অভিনব কায়দায় গাছপালা সাবাড় করে যাচ্ছে। এসব হাতির কবল থেকে বিভিন্ন ফলদদ্রব্য রক্ষা করার চেষ্টা করা হলেও বন্যহাতি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করছে।
এ ব্যাপারে আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী বলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন।
জানতে চাইলে চট্টগ্রামের বন সংরক্ষক (বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি অঞ্চল) জাহিদুল কবির সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে এলাকাবাসীকে সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দিয়ে জানান, দেয়াঙ পাহাড়ে শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠায় বন্যহাতিরা বিচরণ করতে পারছে না। তাই এদিক-সেদিক ছুটে লোকালয়ে নেমে আসছে। হাতির পাল যে পথে আসছে সে পথে নেওয়ার জন্য বন্যপ্রাণী বিভাগের একটি টিম সেখানে কাজ করছে। আমরা যথেষ্ট আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছি। তবে কিছুদিন সময় লাগবে।