শহীদ আলতাফ মাহমুদ পদক পেলেন তিন গুণী

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী, স্থপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও জামী আল সাফী গ্রহণ করলেন ‘শহীদ আলতাফ মাহমুদ পদক-২০১৯’। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে গতকাল শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে পদক ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। নাসির উদ্দীন ইউসুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্তদের নিয়ে শংসাবচন পাঠ করেন সঙ্গীতা ইমাম, শাওন মাহমুদ ও মারুফ রসূল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলতাফ মাহমুদের স্ত্রী সারা আরা মাহমুদ।

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’র অমর সুরস্রষ্টা শহীদ আলতাফ মাহমুদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ২০০৫ সালে গঠিত হয় ‘শহীদ আলতাফ মাহমুদ ফাউন্ডেশন’। এ পর্যন্ত ২১ জন গুণী ব্যক্তিত্বকে পদক প্রদানের মাধ্যমে সম্মাননা জানিয়েছে শহীদ আলতাফ মাহমুদের পরিবারের সদস্য এবং ক্র্যাক প্লাটুনের গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত এ ফাউন্ডেশন।

আলতাফ মাহমুদের মেয়ে এবং ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব শাওন মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতি বছর একটি পদক, উত্তরীয় ও ১০ হাজার টাকা মূল্যমানের আর্থিক সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে শহীদ আলতাফ মাহমুদ পদক দেওয়া হয়ে থাকে। এ বছর তিন গুণীর হাতে পদক তুলে দিতে পেরে আমরা গর্বিত।’

পদক গ্রহণের পর অনুভূতি জানাতে গিয়ে কামাল লোহানী বলেন, ‘আলতাফ মাহমুদকে নিয়ে কথা বলাটা আমার জন্য কঠিন। আলতাফ মাহমুদকে আমি প্রথম দেখেছিলাম তখনকার যুবলীগের সম্মেলনে। তিনি তখন গেয়েছিলেন, সলিল চৌধুরীর একটা গান। যে মানুষটি সুরের মাধ্যমে আমাদেরকে প্রতিবাদী হতে শিখিয়েছেন। তার কথা মনে হলে যেমন বেদনাহত হয়, সেই বেদনা থেকেই আমরা অনুপ্রেরণা পাই। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন শিল্পের প্রতি অনুগত না থাকলে মানুষের জন্য কিছু করা যায় না।’

এর আগে আলতাফ মাহমুদ পদক পেয়েছেন বেবি ইসলাম, ড. এনামুল হক, সাবিনা ইয়াসমিন, অজিত রায়, খোন্দকার নুরুল আলম, সুধীন দাস, বিপুল ভট্টাচার্য, আলম খান, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, নায়করাজ রাজ্জাক, মুস্তাফা মনোয়ার, মো. শাহনেওয়াজ, কাইয়ুম চৌধুরী, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, আলাউদ্দিন আলী, হাসান আজিজুল হক, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আলী যাকের, মফিদুল হক, সৈয়দ হাসান ইমাম ও ফেরদৌসী মজুমদার।