কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নুর মোহাম্মদ (৩৫) নামের এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত নুর মোহাম্মদ যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি।
রবিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরা ২৭নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি ওই ক্যাম্পের মৃত কালা মিয়ার ছেলে।
দুই দিন আগে গ্রেপ্তার করে পুলিশ নুর মোহাম্মদকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানে গেলে তার সহযোগীদের সঙ্গে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় বেশ কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার ও টেকনাফ থানার ওসি তদন্তসহ ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে দাবি করছে পুলিশ।
ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, দুই দিন আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একাধিক মামলার পলাতক আসামি নুর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন- সম্প্রতি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা সঙ্গে তিনি জড়িত এবং পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে তার আস্তানায় অস্ত্র মজুদ রয়েছে। তার স্বীকারোক্তির উপর ভিত্তিতে তাকে নিয়ে টেকনাফ থানা পুলিশের ওসি এবিএমএস দোহার নেতৃত্বে একদল পুলিশ পাহাড়ের আস্তানায় অভিযানে যান।
এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একদল সন্ত্রাসী পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে নুর মোহাম্মদকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়ে। গোলাগুলিতে থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) এবিএমএস দোহা (৩৬), কনস্টেবল আশেদুল (২১), অন্তর চৌধুরী (২১) আহত হয়। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তল্লাশি করে ৪টি এলজি, ১টি থ্রি কোয়ার্টার, ১৮ রাউন্ড গুলি, ২০ রাউন্ড খালি খোসাসহ নুর মোহাম্মদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নুর মোহাম্মদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।
ওসি আরও জানান, নিহত নুর মোহাম্মদ গত ২২ আগস্ট যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ইয়াবা পাচার, সন্ত্রাসী, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি ও রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী সংগঠনের স্বঘোষিত নেতা। তার বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে টেকনাফে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যার মামলার আরও তিনজন আসামি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। এরা প্রত্যেকে দুই বছর আগে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে অন্যান্য রোহিঙ্গাদের সাথে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে এবং টেকনাফের জাদিমোরা শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পশ্চিম পাহাড়ে অবস্থান নেয়।