নিরাপদ পানি নিশ্চিতে দেশের বাকি ৫২ জেলায় পরীক্ষাগার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ ১৭৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। দেশের কোন অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির মান কী, পানির উৎসগুলোর গুণগত মান কেমন সে সম্পর্কে জানা যাবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে। এর মাধ্যমে কোনো অঞ্চলের পানির গুণগত মান খারাপ হলে তার কারণ অনুসন্ধানের ব্যবস্থাও নেওয়া যাবে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে এসেছে। প্রকল্পটি আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উত্থাপন করা হতে পারে। প্রকল্প ব্যয়ের পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে মেটানো হবে। প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে চলতি বছরের জুলাই থেকে শুরু করে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করবে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র আরও জানায়, বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীন ১১টি আঞ্চলিক পানি পরীক্ষাগার এবং ঢাকায় একটি কেন্দ্রীয় পানি পরীক্ষাগারসহ মোট ১২টি পরীক্ষাগার রয়েছে। এসব পানি পরীক্ষাগার থেকে অনেক জেলার দূরত্ব বেশি হওয়ায় পানি পরীক্ষা করার জন্য নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ এবং পরিবহনের জটিলতা দেখা দেয়। ফলে অনেক পানি পরীক্ষার সঠিক ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, সব কাজে নিরাপদ পানি ব্যবহার করা জনস্বাস্থ্য রক্ষার অন্যতম উপায়। রাসায়নিক দ্রব্য ও জীবাণুর উপস্থিতির কারণে দূষিত পানি পান করার ও গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করার ফলে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়। সার্বিকভাবে আমাদের দেশে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার কভারেজ বৃদ্ধির হার সন্তোষজনক হলেও সরবরাহকৃত পানির বিশুদ্ধতা সম্পর্কে ব্যবহারকারীরা অনিশ্চয়তায় ভোগেন। বর্তমানে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এবং নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকের উপস্থিতি বাংলাদেশের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য বিরাট হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জানায়, বর্তমানে অধিদপ্তরের অধীন পরিচালিত এসব পরীক্ষাগারে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি যন্ত্রপাতি দিয়ে পানির বিভিন্ন প্রকার পরীক্ষা করার সুবিধা রয়েছে। এসব অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এসব রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনেও প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প থেকে কিছু কিছু তহবিল সংগ্রহ করে ১২টি পরীক্ষাগারে পানি পরীক্ষার রাসায়নিক দ্রব্যাদি সংগ্রহ কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। তহবিল ও লজিস্টিক সাপোর্টের অভাবে পানি পরীক্ষণ ও পর্যক্ষেণের নতুন কাজ হাতে নেওয়া সম্ভব হয় না। এছাড়া প্রয়োজনবোধে নতুন নতুন প্যারামিটার পরীক্ষা করে পানির গুণগতমান যাচাই করা প্রয়োজন হতে পারে।
অধিদপ্তরের চলমান বিভিন্ন প্রকল্পে স্থাপিত নতুন উৎসের পানি পরীক্ষার জন্য বিদ্যমান ১১টি আঞ্চলিক ও ১টি কেন্দ্রীয় পানি পরীক্ষাগারের কার্যক্রম ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার সুপারিশ অনুসারে দেশের অবশিষ্ট ৫২টি জেলায় অধিদপ্তরের বিদ্যমান জেলা অফিসগুলোর প্রয়োজনীয় কক্ষের ব্যবস্থা করে নতুন ৫২টি পানি পরীক্ষাগার স্থাপনের লক্ষ্যে আলোচ্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পানি পরীক্ষাগার নেই এমন ৫২টি জেলা সদরে ৫২টি নতুন পানি পরীক্ষাগার স্থাপন করা সম্ভব হবে। পানি পরীক্ষার সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে জনসাধারণ নিরাপদ পানি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবে এবং পানিবাহিত নানাবিধ রোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারে। এতে জনগণের নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।
সূত্র জানায়, ঢাকা বিভাগের ১১ জেলা, চট্টগ্রামের ৯ জেলা, রাজশাহীর ৬ জেলা, ময়মনসিংহের ৩ জেলা, বরিশালের ৫ জেলা, সিলেটের ৩ জেলা ও রংপুরের ৭ জেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।