আশুলিয়ায় পুলিশের এক এসআইর বিরুদ্ধে মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে মামলা থেকে বাদ দিতে ৫০ হাজার টাকা আদায় এবং তাকে বিবস্ত্র করে পেটানোসহ পরিবারের সদস্যদেরও মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, গত শনিবার রাত ৮টার দিকে নরসিংহপুরের গুমাইল এলাকায় আশুলিয়া থানার এসআই মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এসআই মনিরুজ্জামান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তারা পরোয়ানাভুক্ত আসামি আতিককে ধরতে গিয়ে উল্টো হামলার শিকার হয়েছেন।
আশুলিয়া থানার একটি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আতিকের ভাই মজিদ দেশ রূপান্তরের কাছে অভিযোগ করেন, শনিবার রাত ৮টার দিকে তার ভাই আতিককে সাদা পোশাকে ধরতে যায় এসআই মনিরুজ্জামানের তিন সোর্স। এ সময় দোকানের সামনে আতিককে ধরে ফেলে তারা। পরে তিনি (মজিদ) তাদের পরিচয় জানতে চাইলে কোনো উত্তর না দিয়ে হঠাৎ আতিককে মারতে মারতে বিবস্ত্র করে ফেলে সোর্সরা। বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।
মজিদ বলেন, ‘আমার মা, চাচি ও চাচাসহ স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এলে তাদেরও লাঞ্ছিত ও মারধর করে তারা। এরপর এসআই মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থলে এসে আমার দোকানে মাদক আছে ও আমি মাদক ব্যবসা করি এমন কথা বলে তল্লাশি করে। এ সময় দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে কিস্তির ৬৯ হাজার টাকা ও সেখানে থাকা আমার মোবাইল ফোন জোর করে নিয়ে যায়।’
আতিকের মা মরজিনা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুই ছেলেকে মারধরের হাত থেকে বাঁচাতে আমি আমার দেবর হাবু ও তার স্ত্রীসহ বাধা দিতে গেলে আমাদেরও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করে পুলিশের লোকজন।’
মজিদ ও মরজিনা বেগম অভিযোগ করেন, কিছুদিন আগেও এসআই মনিরুজ্জামান তাদের বাড়িতে এসে মামলা থেকে আতিকের নাম বাদ দেওয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এরপর আবারও টাকার জন্য চাপ দিলে তারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এসআই মনিরুজ্জামান তার সোর্সদের দিয়ে হামলা চালিয়ে নির্যাতন করেন বলেও দাবি করেন মজিদ ও মরজিনা।
মরজিনা বলেন, ‘আমার ছেলে যদি মাদক ব্যবসায়ী হয় তাকে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার দিয়ে দিক। কিন্তু পুলিশ কদিন পর পরই টাকার জন্য বাড়িতে এসে হামলা চালায়, আমাদের মারধর করে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এদিকে আতিকের পরিবারের করা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তা অস্বীকার করে এসআই মনিরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আতিক একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় চারটি মাদকের মামলা রয়েছে, যার মধ্যে একটির ওয়ারেন্ট নিয়ে আমরা তাকে ধরতে যাই।’
এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুই কনস্টেবল আমির ও রাফি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আতিককে গ্রেপ্তার করতে যায়। এ সময় তাদের বাধা দেয় আতিকের ভাই মজিদ ও তার স্ত্রী। আতিককে গাড়িতে তোলা হলে তার স্ত্রী আমাদের ড্রাইভারের চুল টেনে ধরে। পরে কনস্টেবল আমাকে ফোন করলে আমি সেখানে যাই এবং আসামিকে থানায় নিয়ে আসি।’
আতিককে ধরতে যাওয়ার আগে ক্রেতা সেজে তার কাছে একজন পুলিশ সদস্য মাদক কিনতে যান দাবি করে এসআই মনিরুজ্জামান বলেন, ‘পরে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩০০ পুরিয়া হেরোইন এবং ৫৭ পিস ইয়াবাসহ আতিককে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসি।’
আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা নির্যাতন ও লুটপাটের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাইদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে আসামির পরিবারকে মারধর ও লুটপাটের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’