টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার দাপনাজোর এলাকায় ঝিনাই নদের ওপর নির্মিত ব্রিজটি পানির প্রবল স্রোতে পিলারের নিচের মাটি সরে গিয়ে প্রায় দুই মাস আগে দেবে যায়। নদের দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াতের অন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রয়োজনের তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই সেতু দিয়ে যাতায়াত করছে এই এলাকার মানুষ। তবে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের যান চলাচল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকার হাজারো মানুষ।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে স্থানীয়রা জানান, দাপনাজোর এলাকার ঝিনাই নদের ওপর নির্মিত ব্রিজটি উপজেলার আইসড়া, একডালা, দোহার, দাপনাজোর, দেউলী, জশিহাটী, হাকিমপুর, মোড়াকৈসহ ১৫-২০টি গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্থানীয় বাণিজ্যিক কেন্দ্র করটিয়া, সরকারি সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় ও টাঙ্গাইল সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র অবলম্বন।
১৯৯৮ সালে এলজিইডির মাধ্যমে এ ব্রিজটি নির্মাণ করা হয় বলে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রোজদিদ আহমেদ জানালেও এর নির্মাণ ব্যয় জানাতে পারেননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তি জানান, নির্মাণকালেই নানা প্রশ্ন উঠেছিল নির্মাণসামগ্রী নিয়ে। অতি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় নির্মাণ চলাকালেই ব্রিজটির একটি প্যান ধসে পড়ে। তারপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়সারাভাবে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শেষ করে। তার ওপর বালুখেকোদের অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। প্রতি বছর ব্রিজটির আশপাশে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে ব্রিজের নিচ থেকে মাটি সরে যায়। শুকনো মৌসুমে ব্রিজের নিচ থেকে মাটি সরার বিষয়টি চোখে পড়ে স্থানীয়দের। পরে প্রায় দুই মাস আগে ব্রিজটি দেবে যায়। সংশ্লিষ্টরা ব্রিজটি পরিদর্শন করলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ব্রিজটির দ্রুত উন্নয়ন ও সংস্কার দাবি এলাকাবাসীর। বর্তমানে ব্রিজটির অবস্থা ভয়াবহ। যেকোনো সময় ব্রিজটি ভেঙে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
স্থানীয় শফিকুল, পারভেজ, মনজু ও আলম মিয়াসহ ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতি বছর ব্রিজের আশপাশসহ ঝিনাই নদের বিভিন্ন স্থানে ‘বাংলা ড্রেজার’ দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে তীরবর্তী এলাকায় ভিটেবাড়ি নদের গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ঈদগাহ মাঠসহ এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক ভিটেবাড়ি নদের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া ব্রিজের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে এটি ঝুঁকিতে রয়েছে। সম্প্রতি ব্রিজটি দেবে গেছে। এ ছাড়া ব্রিজের পূর্বপাশের অ্যাপ্রোচের মাটি সরে গেছে। ফলে ওই স্থানে স্থানীয়রা বাঁশের মাচা বানিয়ে ব্রিজে উঠছে।
উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রোজদিদ আহমেদ বলেন, ইতিমধ্যে ব্রিজটি পরিদর্শন করে এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। যাতে কেউ ব্রিজটি ব্যবহার করতে না পারে সে জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেখানে নতুন ব্রিজ নির্মাণের অনুমোদন হয়ে টেন্ডার পর্যায়ে রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে, গতকাল সোমবার পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বংশাই নদের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, অবৈধভাবে নদ থেকে বালু উত্তোলনকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি একাব্বর হোসেন এমপি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী উকিল বিশ্বাস, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মালেক, সহকারী পুলিশ সুপার মির্জাপুর সার্কেল দিপঙ্কর ঘোষ প্রমুখ।