জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির স্থগিতাদেশের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দ্বিবার্ষিক সম্মেলন আয়োজন করেছেন জাতীয় শ্রমিক লীগ ঈশ্বরদী আঞ্চলিক শাখার নেতারা। আজ বৃহস্পতিবার ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এ সম্মেলন অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এজন্য কার্যালয়ের সামনে সাজানো হয়েছে প্যান্ডেল।
এর আগে গত রবিবার রাতে জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সম্মেলন স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নির্দেশনা অমান্য করে আয়োজন করা হচ্ছে সম্মেলনের।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর পরপর শ্রমিক লীগের সম্মেলন হওয়ার নিয়ম থাকলেও গত ১৩ বছর ঈশ্বরদী আঞ্চলিক শাখার সম্মেলন হয়নি। এবার কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর অনিবার্য কারণবশত কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে এ সম্মেলন স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, একদিকে দলীয় গ্রুপিং, অন্যদিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতাকারীদের নিয়ে এ সম্মেলন আয়োজন করায় শ্রমিক লীগ ও আওয়ামী লীগের বিরাট একটি অংশ বিষয়টি শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিত করেন। এসব নানা কারণে সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান ঈশ্বরদীর বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ ও শ্রমিক লীগ নেতা।
ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহাক আলী মালিথা বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় নির্দেশ অমান্য করে নৌকার বিরোধিতাকারী নেতাদের নিয়ে এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছিল।
শ্রমিক লীগ ঈশ্বরদী শাখার সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম হোসেন বলেন, স্থানীয় এমপি ও সাবেক মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু ভাইয়ের নির্দেশে আমরা সম্মেলন করব। কেন্দ্রের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। তারা বৈধতা দিলে ভালো, না দিলে সম্মেলন আবার করব।
জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুর রহমান শরীফ ডিলুসহ স্থানীয় শ্রমিক লীগ নেতাদের চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি সম্মেলন করে তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।