কূটনীতিকদের ড. কামাল

‘অবৈধ’ সরকারকে সমর্থন কেন

কয়েকটি দেশের কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠকে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন তাদের উদ্দেশে বলেছেন, জনগণের ভোটারবিহীন সরকারকে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলো কেন সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে?

গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের বাসায় ওই বৈঠক শেষে দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

এদিকে সরকারবিরোধী প্রধান রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা কূটনীতিকদের কাছে যে ‘নালিশ’ করেছেন, তা আমলে নিচ্ছেন না ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে কূটনীতিকদের বৈঠকের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বলেন, ফ্রন্টের নেতারা বৈঠক করলেও নির্বাচন নিয়ে কূটনীতিকদের তারা বিভ্রান্ত করতে পারবেন না।

মান্না আরও জানান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন সরকার বাববার আটকে দিচ্ছে বলে কূটনীতিকদের কাছে অভিযোগ করেন।

সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হওয়া ওই বৈঠক চলে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে মান্না জানান, বৈঠকে ড. কামাল হোসেন কূটনীতিকদের উদ্দেশে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন তাদের বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের কলঙ্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে ‘অবৈধ’ সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। ফলে দেশে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি

হয়েছে। গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে, মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এরপরও তোমরা কেন এ সরকারকে সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছ। এ সময় দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে তুলে ধরেন তিনি। এ ছাড়া ভারতের অঙ্গরাজ্য আসামের নাগরিকত্ব হারা জনগণকে রোহিঙ্গাদের মতো বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন ড. কামাল হোসেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া ফ্রন্টের এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসনের জামিন সরকার বারবার আটকে দিচ্ছে বলে কূটনীতিকদের জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। বেগম জিয়ার জামিনের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ সময় কূটনীতিকরা মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের নোট নেন।

বৈঠক শেষে ড. কামাল হোসেন উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, দেশের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে তারা জানতে চেয়েছেন। আমরা তুলে ধরেছি। গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেমন হয়েছে তা দেশের জনগণ যেমন জানে, তেমনি বিদেশি বন্ধুরাও জানেন।

বৈঠকে ড. কামাল হোসেন ও মির্জা ফখরুল ছাড়াও অংশ নেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার, ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন, জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সিপ্পো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিসহ পশ্চিমা সাতটি দেশের কূটনীতিকরা বৈঠকে অংশ নেন।

কূটনীতিকদের বিভ্রান্ত করতে পারবে না ঐক্যফ্রন্ট : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে কূটনীতিকদের বৈঠকের পর গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বলেন, কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করলেও ঐক্যফ্রন্টের নেতারা নির্বাচন নিয়ে তাদের বিভ্রান্ত করতে পারবেন না। তিনি বলেন, কূটনীতিকরা এখন বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা দেখতে চান। নির্বাচনসহ অন্যান্য ইস্যু নিয়ে বৈঠক করলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা তাদের বিভ্রান্ত করতে পারবেন না। কারণ কূটনীতিকরা কোনো ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ সমর্থন করেন না। তারা বাংলাদেশে কোনো ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ দেখতে চান না। আবদুর রাজ্জাক বলেন, তারা অবশ্যই বিনা বিচারে কোনো হত্যা হলে, আইনের লঙ্ঘন হলে সেটাকে সমর্থন করেন না। দেশে ন্যায়ের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হোক এটা সবাই চান। কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কে খারাপ দৃষ্টিতে দেখতে চাই না।