চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রাজাপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম নাজিম উদ্দীন (৩৫)।

তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আকুন্দবাড়িয়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

বুধবার মধ্যরাতে গরু আনতে সীমান্তের ৭৪ নম্বর পিলারের কাছে গেলে ভারতের গেদে আমতলা বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে গুলি করে। ঘটনাস্থলে তিনি নিহত হলে তার লাশ নিয়ে যায় বিএসএফ।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাত ৩টার দিকে নাজিমসহ বেশ কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গরু আনতে যায়। এ সময় তারা বাংলাদেশি রাজাপুর সীমান্তের ৭৪ নম্বর মেইন পিলারের কাছাকাছি পৌঁছালে ভারতের গেদে আমতলা বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে। বিএসএফের ধাওয়ায় সহযোগীরা পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও গুলিতে নিহত হয় নাজিম। পরে তার লাশ টেনেহিঁচড়ে ভারতের গেদে আমতলা বিএসএফ ক্যাম্পের অদূরে ১ নম্বর গেটের কাছে ফেলে রাখা হয়।

নিহতের ভাই রতন আলী জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভারত থেকে গরু আনতে সে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর সকালে জানতে পারি বিএসএফ তাকে গুলিতে হত্যা করেছে।

জীবননগর উপজেলার সিংনগর গ্রামের বাসিন্দা আনু হালদার জানান, বেলা ১১টার দিকে ভারতের গেদে আমবাগান বিএসএফ ক্যাম্পের অদূরে এক বাংলাদেশির লাশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইস্রাফিল আলী জানান, নিহত নাজিম উদ্দীন দীর্ঘদিন ধরে ভারত থেকে গরু বাংলাদেশে নিয়ে আসত।

ঝিনাইদহ খালিশপুর ৫৮ বিজিবি পরিচালক কামরুল হাসান জানান, স্থানীয় গ্রামবাসীর মাধ্যমে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর খবর আমরা শুনেছি। প্রকৃত ঘটনা জানতে বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের আমন্ত্রণ জানিয়ে বিএসএফকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিএসএফ বিজিবির চিঠির কোনো উত্তর দেয়নি।