পাহাড় দখল করে পুলিশ কনস্টেবলের স্থাপনা নির্মাণ

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের পূর্ব ধনিয়াকাটার লেনের শিরা নামক স্থানে বন বিভাগের সংরক্ষিত পাহাড় দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় বন বিভাগ রহস্যজনক কারণে এ বিষয়ে নীরব রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা জানান, পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ধনিয়াকাটা গ্রামের মৃত কবির আহমদের ছেলে ও রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি থানায় কর্মরত পুলিশের কনস্টেবল একামুদ্দিন পূর্ব ধনিয়াকাটা এলাকায় সংরক্ষিত পাহাড় জবর দখল করে তারের বেড়া দিয়ে দখল নিয়েছেন।

তারা জানান, প্রায় ১ হেক্টর বনভূমি ২০০৭ সালে বন বিভাগ পেকুয়ার ধনিয়াকাটা এলাকার লেনের শিরা নামক স্থানে অংশীদারিভিত্তিক বনায়ন সৃষ্টি করে। একামুদ্দিন ২০১৬ সালে বনায়নের ওই জায়গা স্থানীয় এক উপকারভোগীর কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে স্বল্পমূল্যে কিনে নেন।  

টইটংয়ের পাহাড়ে বসবাসরত লোকজন জানান, চার দিন আগে পুলিশ কনস্টেবল একামুদ্দিন ওই জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দক্ষিণ চট্টগ্রাম বন বিভাগের অধীন পেকুয়ার বারবাকিয়ার রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল গফুর মোল্লাকে মোটা অঙ্কে ম্যানেজ করা হয়েছে। স্থাপনা নির্মাণ শুরুর সময় বন বিভাগের নিরাপত্তাকর্মী ও স্থানীয় সোর্স বিষয়টি সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করলেও ব্যবস্থা নেননি। 

সরেজমিন বুধবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, একামুদ্দিনের নিয়োগকৃত শ্রমিকরা তার ও আরসিসি পিলারের সমন্বয়ে বেড়া নির্মাণ করছেন।

জানতে চাইলে একামুদ্দিন জানান, তিনি জায়গাটি কিনে নিয়েছেন।

তিনি বলেন, সাহস থাকলে পাহাড়ে গিয়ে আমার জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের ছবি তুলে নিয়ে আসেন।

পাহাড়ে স্থাপনা নির্মাণ করলে সাংবাদিকের এত মাথাব্যথা কেন বলেও পাল্টা প্রশ্ন করেন তিনি।

পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল গফুর মোল্লার সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক কাইয়ুম মাসুদ জানায়, আমি এখনই স্থানীয় রেঞ্জারকে নির্দেশ দিচ্ছি ওই স্থাপনা নির্মাণকাজের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে। পাহাড় ও বনভূমি কাউকে জবর দখল করতে দেওয়া হবে না।