এবার বাস মেরেই ফেলল ফুটপাতে দাঁড়ানো নারীকে

রাজধানীর বনানীতে বাসের ধাক্কায় ফারহা নাজ (২৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি বনানী আমতলীর ইউপিএল নামে একটি বেসরকারী সংস্থার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ফারহা নাজ স্বামীর মোটরসাইকেলে চড়ে বাসা থেকে আমতলী উড়াল সড়কের নিচে নামেন। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে রাস্তা পার হওয়ার জন্য ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা ক্যান্টনমেন্ট মিনিবাস সার্ভিসের একটি বাস প্রথমে ধাক্কা দেয় বিদ্যুতের একটি খুঁটিতে। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবক এতে ছিটকে পড়ে যান। ফুটপাত ঘেঁষে বাসটি মুহূর্তেই মুচড়ে দেয় আরেকটি সড়ক বাতির খুঁটি। বাসের ধাক্কায় বেঁকে যায় খুঁটি। পাশে থাকা ফারহা নাজ পড়ে যান সড়কের ওপর। তার মাথা ফেটে ঝরতে থাকে রক্ত। পরে তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বনানী থানার এসআই মো. আফজাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমতলীতে ফ্লাইওভারের নিচে ফুটপাতের পাশে দাঁড়ানো ছিলেন ফারহানা। এ সময় ক্যান্টনমেন্ট বাস সার্ভিসের একটি গাড়ি আমতলী ক্রসিংয়ে ইউটার্ন নেওয়ার সময় ফারহানাকে ধাক্কা দেয়। তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি জব্দ করা হলেও চালক পালিয়ে যায়।

নিহত ফারহানাজের ভগ্নীপতি সরফরাজ জানান, মহাখালী আমতলি ইউপিএল নামে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন ফারহানাজ। সকালে স্বামী নাজমুল মোটরসাইকেলে করে তাকে অফিস এলাকায় নামিয়ে দেয়।

তিনি জানান,  চার বছর আগে বিয়ে হয় পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা নাজমুল হাসানের সঙ্গে। রাজধানীর মিরপুরের মণিপুর এলাকায় থাকতেন তিনি। ফারহা-নাজমুলের সংসারে রয়েছে দেড় বছর বয়সী মেয়ে তাহরিন হাসান ইশরা। নিহতের গ্রামের বাড়ি ঢাকার ধামরাই উপজেলার বথুলি গ্রামে।

এর আগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) অর্থ বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক কৃষ্ণা রানী চৌধুরীর (৫২) পায়ে চাপা দেয় একটি যাত্রিবাহী বাস।

২৭ অগাস্ট অফিস শেষে বাংলামোটরের ফুটপাতে ট্রাস্ট বাসের চাপায় পা হারান কৃষ্ণা। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার বাঁ পা কেটে ফেলতে হয়।