ফ্রান্সের ঐতিহাসিক লুক্সেমবার্গ প্রাসাদে অবস্থিত পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট ৭৫ বছর ধরে বিব্রতকর একটা সত্য গোপন করে আসছিল। ভবনটির ভূগর্ভস্থ অংশে ছিল জার্মানির নাৎসি পার্টির নেতা অ্যাডলফ হিটলারের আবক্ষ মূর্তি। চলতি সপ্তাহে ফরাসি সংবাদপত্র লা মঁদের অনুসন্ধানে মূর্তিটি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায় বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সংবাদপত্রটির অনুসন্ধানে ১০ ফুট লম্বা ও সাড়ে ৬ ফুট চওড়া একটি নাৎসি পতাকা এবং অন্য কিছু নথি পাওয়া যায়। প্রতিবেদক অলিভিয়ার ফায়ে বলেন, তার কাছে তথ্য ছিল যে হিটলারের একটি মূর্তি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে সিনেটে রয়েছে। যুদ্ধের সময় লুক্সেমবার্গ প্রাসাদ জার্মান বিমানবাহিনীর সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেক বাধার পর অবশেষে সিনেটের প্রধান স্থপতি ড্যামিয়েন দেচেলেতের কাছ থেকে বিষয়টি অনুসন্ধানের অনুমতি পান।
এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ভবনের ভেতর আবক্ষ মূর্তি ও পতাকাটি এত দিন কীভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, তার সঠিক বর্ণনা এখনো রহস্যাবৃত। তবে বিভিন্ন ঘটনা বিশ্লেষণ করে একটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে। ১৯৪৪ সালের আগস্টে প্যারিসে টালমাটাল অবস্থা ছিল। সে সময় জার্মানির সেনারা ফরাসি সেনা ও প্রতিরোধ বাহিনীর সম্মিলিত শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করে। লুক্সেমবার্গ প্রাসাদে পলায়নরত জার্মান বিমানবাহিনীর সদস্যরা বিশৃঙ্খল অবস্থা করে রাখে। দেয়াল গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি গাদা করে রাখা হয়েছিল আসবাব। পেটিট লুক্সেমবার্গ হিসেবে পরিচিত পাশাপাশি ভবনের অবস্থাও ছিল একই, যেখানে থাকতেন তৎকালীন জার্মান বিমানবাহিনীর কমান্ডার হুগো স্পেরল। বর্তমানে সেখানে থাকেন সিনেট প্রেসিডেন্ট জেরার্ড লার্চার।
ইতিহাসবিদ সিসিল দেসপ্রেইরিজের মতে, জয়ী ফ্রান্সের জন্য মুহূর্তটা ছিল পরমানন্দের। তিনি বলেন, ‘পতাকাগুলো ট্রফি হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। ভবনে লুটতরাজ চালানো হয়। জয়ীরা দখলকারীদের কাছ থেকে যা পেয়েছে নিয়েছে। নাৎসিদের পণ্যে সয়লাব হয় কালোবাজার।’ এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যেই কেউ একজন অবশ্যই হিটলারের মূর্তি ও পতাকাটি লুক্সেমবার্গ প্রাসাদের এক জায়গায় রেখেছিল। এগুলো ভূগর্ভস্থ অংশে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এই সামগ্রীগুলো থাকার বিষয় জানত ভবনের অল্প কিছু কর্মী।