নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগকে ‘আগুন’ উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান বলেছেন, ‘আমি হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলতে চাই, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ মানে আগুন, এ আগুন নিয়ে খেলবেন না’।
তিনি বলেন, ‘মিথ্যা মামলায়’ আওয়ামী লীগের ২০ নেতাকর্মী এখনো জেল খাটছে। তাদের নামে কী উদ্দেশ্যে মামলা দেওয়া হলো তা খুঁজে বের করতে হবে। পত্রিকায় দেখলাম আমাদের জেলা প্রশাসক বলেছেন, স্বাধীনতা বিরোধী কেউ যেন পুলিশে ঢুকতে না পারে। কথাটি আমার ভালো লেগেছে। কিন্তু শুধু পুলিশ না, কোনো জায়গায় যেন প্রবেশ করতে না পারে।
শামীম ওসমান বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের গোপালগঞ্জ। সেখানে ১ নম্বর ওয়ার্ডে এক বাকপ্রতিবন্ধীকে ছেলেধরা আখ্যা দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে মারা হয়েছে। এ ঘটনায় ১ থেকে ১০ নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত ৭৪ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে আরও চার শজনের নামে হত্যা মামলা দেওয়া হলো। মামলায় যে পুলিশ অফিসারকে বাদী করা হয়েছে, সে নিজে জিডি করে বলেছে ওটা তার স্বাক্ষর না। তাহলে ওই এসআইয়ের নামে ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নামে মামলা হলো কার নির্দেশে? নিরপরাধ নেতাকর্মীদের ২০ জন এখন জেলে। এ দায়ভার কার?
শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় নওয়াব সলিমুল্লাহ সড়কে ‘রুখে দাঁড়াও স্বাধীনতাবিরোধী সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে’ শিরোনামে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামীম ওসমান এসব বলেন।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি বাবু চন্দন শীলের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা, সোনারগাঁ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সামছুল ইসলাম ভূইয়া, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সভাপতি মহিবুর রহমান, ফতুল্লা থানার সভাপতি সাইফুল্লাহ বাদল, বন্দর থানার সভাপতি এম এম রশীদ প্রমুখ।
শামীম ওসমান আরো বলেন, জাতীর পিতার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বারবার নারায়ণগঞ্জের নাম উল্লেখ আছে। নারায়ণগঞ্জের বায়তুল আমানে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে। স্বাধীনতা সনদ লেখা হয়েছে। ১৯৭৯ সাল। নেত্রী তখনো দেশে ফিরে নাই। বঙ্গবন্ধু হত্যার নীল নকশাকারী জিয়াউর রহমান নারায়ণগঞ্জে আসবেন খবর আসল। আমরা চাষাঢ়ায় অবস্থান নিলাম। স্লোগান দিলাম, ‘খুনি জিয়া, খুনি জিয়া’। তখন বিএনপির জন্ম হয়নি। ‘জাগো দলে’র হোমড়া-চোমড়ারা আমাদের ওপর হামলা করল। সাতজন ছেলে ছিলাম। কেউ দৌড় দিলাম না। আমরা সেই খেলোয়াড়। বাবা-মায়ের পর যদি কাউকে মানি, কারো জন্য জীবন দিতে পারি, তিনি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৭৫’র পর আমরা যারা রাজনীতিতে এসেছি, আমরা শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক ‘মা’ মনে করি।
তিনি আরও বলেন, ‘২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসল। আমার ভাইয়ের ফ্যাক্টরিতে হামলা করে তিন শ গরুর বান কেটে দেওয়া হয়েছিল। রাজহাঁসের অর্ধেক গলা কেটে দেওয়া হয়েছিল। বাড়িতে গুলি করা হলো। আমার মা এক কাপড়ে বেরিয়ে গেলেন। কিন্তু আমরা তো ক্ষমতায় এসে প্রতিশোধ নেই নাই। আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া একেএম সামছুজ্জোহার ছেলে। ২০০৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর আমি নারায়ণগঞ্জে এসেছিলাম। তখন বলা হয়েছিল, আমাকে মেরে ফেলা হবে। গ্রেপ্তার করা হবে। সে রাতেই র্যাব, পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করতে ঘেরাও করেছিল। অন্তত পাঁচ হাজার সমাগম। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হলো। মাত্র ৪০ মিনিটে লাখো মানুষ এসে জড়ো হয়েছিল। ১৭ দিন এলাকায় ছিলাম। কেউ ঢুকতে পারে নাই’।
তিনি বলেন, ‘আজকের এই সমাবেশে যে পরিমাণ মানুষ এসেছেন, আপনাদের যদি নির্দেশ দেওয়া হয়, পুরো নারায়ণগঞ্জ অচল করে দেন। ঢাকা-চট্রগ্রাম, ঢাকা-সিলেট-মুন্সিগঞ্জ-মোক্তারপুরে গিয়ে বসে পড়েন’।
শামীম ওসমান বলেন, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হোক এমন কিছু আমার দ্বারা হবে না। তবে আপনাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। দেশ রক্ষায়, স্বাধীনতা বিরোধীদের নির্মূলে শেখ হাসিনা যে নির্দেশ দেবেন, সেটা আমরা অক্ষরে-অক্ষরে পালন করব। ইকবাল সোবহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে সংসদে বলেছি। কখন-কোথায় বলতে হয় তা আমি জানি। আজকে দেশের বিরুদ্ধে কঠিন ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কোরবানির মাংস বিলির নামে রোহিঙ্গাদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। যারা নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের কেউ কেউ আবার বিনা পাসপোর্টে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাস্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসেছে। ড. কামাল, ফখরুলরা বিদেশিদের সঙ্গে বৈঠক করে দেশের বিরুদ্ধে আবারো ষড়যন্ত্র করছে’।