লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের নাগমুদ বাজার উচ্চবিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনের ওপর কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে সম্প্রসারণের কাজ চলায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। জরাজীর্ণ ভবনের সম্প্রসারণে এলাকাবাসী দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে।
আবদুস সালাম, রঈছ উদ্দিনসহ কয়েকজন অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ের বর্তমান ভবনটির বিমে ফাটল দেখা দিয়েছে। পলেস্তারা খসে পড়ছে। দেয়ালগুলো অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে, দেয়ালের নিচের অংশে ফাটল দেখা দিলেও ঝুঁকিপূর্ণ একতলা এই ভবনের ওপর দ্বিতীয় তলার কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বারবার স্থানীয় লোকজনসহ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলার পরও তারা সম্প্রসারণকাজ অব্যাহত রেখেছে।
অভিভাবকরা আরও জানান, স্কুলের উত্তর পাশে একটি টিনশেড শ্রেণিকক্ষ এবং অনেক জায়গা থাকার পরও ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনের ওপরে সম্প্রসারণকাজ কেন করছে তা তাদের বোধগম্য নয়।
গত শনিবার বিদ্যালয়ে গেলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর রামগঞ্জ উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার (আজ) স্যার (নির্বাহী প্রকৌশলী) আসবেন, আপনারা সেদিন আসেন। স্যার আসার পর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্কুলের কাজের ব্যাপারে উল্টাপাল্টা পোস্ট করা হচ্ছে। কাজ বন্ধ করে দিলে আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না, এই এলাকার ছেলেমেয়েদের ক্ষতি হবে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের পুরনো এ ভবনের ওপরে একতলা সম্প্রসারণ ও পাশে একটি কক্ষ নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিসান এন্টারপ্রাইজ এ কাজ পায়। এরপর ঠিকাদার ২১ বছরের পুরনো ওই ভবনের ওপর ৪ সেপ্টেম্বর সম্প্রসারণের কাজ শুরু করতে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের বাধার মুখে পড়েন। পরে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর হুমকিতে বাধাদানকারীরা পিছু হটেন।
এ ব্যাপারে জিসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আলতাফ হোসেন বলেন, ‘টেন্ডার অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে যেভাবে আমাদের বলা হয়েছে আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করছি।’
শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী দিপঙ্কর খীসা বলেন, ‘সম্প্রতি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় আমি এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। তারপরও আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে আপনাকে এ বিষয়ে জানাব।’
জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ এফ এম আবদুস ছালাম বলেন, ‘আমি শিক্ষক মানুষ, এ ব্যাপারে কোনো তথ্য আপনাকে দিতে পারছি না।’
স্থানীয় ভোলাকোট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বশির আহম্মেদ মানিক বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। উপজেলা নির্বাহী স্যারের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছি। তবে জরাজীর্ণ ভবনের ওপর কীভাবে সম্প্রসারণের কাজ চলছে, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান বলেন, ‘আমি বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। খোঁজ নিচ্ছি, যদি এমনটাই হয় তাহলে আগে থেকে সাবধান না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।