শিশু গৃহকর্মী: ঢাকার অদৃশ্য ‘দাস’

বাংলাদেশের দরিদ্র পরিবারের অনেক শিশু তাদের জীবনের শুরুতেই বাধ্য হয় কোনো অপেক্ষাকৃত অবস্থাসম্পন্ন পরিবারে গৃহস্থালির কাজে নিয়োজিত হতে। তাদের কেউ কেউ হয়তো আত্মীয়দের হাত ধরে এ কাজে যোগ দেয়, আবার কাউকে হয়তো রাস্তা থেকে তুলে এনে বাধ্য করা হয়।

তারা মাথার ওপর একটি ছাদের নিশ্চয়তার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয় নিজেদের শৈশব।

তাদের কাউকে হয়তো শুধু আশ্রয় আরা খাবারের বিনিময়ে কাজ করিয়ে নেয়া হয়। তাদের থাকে না কোনো বেতন, কোনো ব্যক্তিগত জায়গা অথবা নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা। তার চেয়ে খারাপ বিষয় হলো, তাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।

২০১৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক কম বয়সী গৃহকর্মীদের ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করে। সেখানে দেখা যায়, ৭৫ ভাগ শিশুকে প্রতিদিন কাজ করতে হয়। চার ভাগের এক ভাগ শিশু থাকার জন্য আলাদা কক্ষ পেত, বেশির ভাগকেই ঘুমাতে হতো ড্রয়িংরুমে, অথবা রান্নাঘর কিংবা বারান্দায়। 

এত বছর পরও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। ইতালির আলোকচিত্রী মার্কো গিয়ানাতাসিও সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় এসে দেখেছেন সেই একই চিত্র। 

তার সঙ্গে দেখা হয়েছে, মারধরের শিকার, লাঞ্ছিত অথবা নিজেরাই নিজেদের আঘাত করেছে এমন শিশুদের সঙ্গে।

তিনি তার তোলা ছবির অ্যালবামের নাম দিয়েছেন, 'ঢাকার অদৃশ্য দাসেরা'। তিনি অনুসন্ধানে শুধু মেয়ে শিশুদের সঙ্গে কথা বলেছেন।   

তার বক্তব্য, ছেলেরাও একই পরিস্থিতিতে আছে। তবে তাদের সংখ্যা কম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায়ও এ তথ্য পাওয়া যায়।

গিয়ানাতাসিও, এসব মেয়েদের কোনো বস্তুর মতো ব্যবহার করা হয়, যেন তারা কোনো ঘরের প্রয়োজনীয় আসবাব। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নারীরাই তাদের ওপর অত্যাচার করে থাকেন বলে জানান তিনি।

তিনি মোট ১১টি ছবি অনলাইনে দেন। যার একটি ১২ বছর বয়সের মৌসুমী নামে এক কিশোরীকে দেখা যায়। গিয়ানাতাসিও জানান, ওই কিশোরী ঢাকার একটি বাসায় দুই বছর কাজ করার সময় নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়। পরে সে পালিয়ে এসে শ্রমিকের কাজ নেয়। এখন সে রস্তায় থাকে।

জার্মান ম্যাগাজিন স্পিজেল ডি থেকে নেয়া।