দীর্ঘ চার মাস ধরে উত্তাল হংকং। সরকারের অপরাধী প্রত্যর্পণ আইন বাতিলের দাবিতে গণতন্ত্রপন্থিরা চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ে প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। টানা আন্দোলনের মুখে গত সপ্তাহে প্রত্যর্পণ বিলটি প্রত্যাহার করে নেয় হংকং প্রশাসন। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের পাঁচ দফা দাবি না মানায় পুলিশের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই এখনো বিক্ষোভ চলছে।
ইতিমধ্যে ২০১৪ সালের আমব্রেলা আন্দোলনকে ছাড়িয়ে গেছে চলতি আন্দোলন। অঞ্চলটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে অসুস্থরা পর্যন্ত হুইলচেয়ারে চেপে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন। ঘোষণা দিয়ে তারা বিভিন্ন সময়ে একই পোশাক পরে বিক্ষোভ করেন। এভাবেই শহরে দীর্ঘ ৩০ মাইলজুড়ে মানববন্ধন রচনাও হয়েছে। প্রতিদিন আন্দোলনের আঙ্গিক পরিবর্তন করছেন তারা। এরই মধ্যে বিক্ষোভকারীরা প্রতিবাদের অভিনব নজির স্থাপন করেছেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থিরা দেশটির টানেল এবং সাবওয়েতে স্টিকি নোট ও ব্যানার সেটে প্রতিবাদ গড়ে তুলেছেন। হংকংয়ের টানেল অথবা সাবওয়েতে পা ফেললেই সরকারবিরোধী এসব স্টিকি নোট ও পোস্টার দেখা যাবে। প্রতিবাদ এমন জায়গায় চলে গেছে, যেখানে সাধারণ পথচারীরাও তাদের বক্তব্য লিখে দেয়ালে লাগাতে পারেন। এমনই একটি প্রতিবাদী স্টিকি নোট ‘লেনন ওয়াল’ যেন মানুষের আবক্ষ মূর্তিতে রূপ নিয়েছে। সেখানে আরও অনেকে এসে ছোট্ট কাগজে নিজের প্রতিবাদ লিখে রেখে যাচ্ছেন।
১৮ বছর বয়সী জেসিকা শহরে এমন অনেক লেনন ওয়াল দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, এ কাজ মানুষকে প্রতিবাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিচ্ছে। লেনন ওয়াল আমাদের কণ্ঠস্বর। অন্যদেরও আমরা এ কাজে অনুপ্রেরণা দিচ্ছি।
১৯৮০ সালে পূর্ব ইউরোপে প্রথম লেনন ওয়াল চালু হয়। হংকংয়ে এখন এটিই হয়ে উঠেছে প্রতিবাদের ভাষা। সেখানে প্রতিবাদকারীদের কান্না যেমন আছে; আছে তাদের ওপর পুলিশি হামলার চিত্রও। ইতিমধ্যে এমন লেনন ওয়ালের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও হংকংয়ের প্রতিবাদকারীদের প্রতি সমর্থন জানানো হচ্ছে। সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশ ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত হংকং ১৯৭৭ সালে চীনের অধীনে আসে। এরপর থেকে ‘এক রাষ্ট্র দুই নীতি’র অধীনে দেশটি পরিচালিত হচ্ছে। গত দুই দশক ধরে চীনা সরকারের সঙ্গে আলোচনা চললেও অপরাধী প্রত্যর্পণ আইন হয়নি।