মাদারীপুর কালকিনি উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের জায়গির গ্রামের আবদুল জব্বার হাওলাদারের ছেলে দাদন হাওলাদার (৩৭) স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েকে হারিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন। এতে বৃদ্ধ বাবা-মা তাকে এক বছরের বেশি সময় ধরে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছেন। ছোট ঘরটিতে পায়ে শিকল পরা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন দাদন হাওলাদার।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই দাদন একটু সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। অন্যের জমি বরগা চাষ করতেন, কখনো আবার অন্যের ক্ষেতে, খামারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন আবার কখনো বিভিন্ন এলাকায় আচার বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এভাবে আয়-উপার্জন করে স্ত্রী মোকসেদা বেগম, এক ছেলে ইয়ামিন (৪) ও বড় মেয়ে জান্নাত (১২), ছোট মেয়ে মিমিকে (৮) নিয়ে কোনোমতে দিন অতিবাহিত করতেন দাদন।
এদিকে স্ত্রী ও ছেলেমেয়েকে নিয়ে পালিয়ে ঢাকা চলে যান তারই রক্তের এক স্বজন। এতে সহজ-সরল দাদন ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীকে হারিয়ে বাকরোধ হয়ে পড়েন। কাজকর্মে মন নেই, খাওয়া-দাওয়া নেই, ঘুম নেই, যেদিকে মন চায় সেদিক চলে যান, কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করলে এলোমেলো উত্তর দেন, মাঝেমধ্যে মানুষকেও মারধর করতেন, শরীরে কোনো পোশাক রাখতেন না, এভাবে কিছুদিনের মধ্যে হয়ে যান মানসিক ভারসাম্যহীন। দাদনের এ অবস্থা দেখে এলাকার লোকজন তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে বলে দাদনকে জিনে ধরেছে। এ অবস্থায় বাবা-মা কোনো উপায় না পেয়ে দাদনকে ছোট একটি ঘরের মধ্যে পায়ে লোহার শিকল দিয়ে সবসময় বেঁধে রাখেন। এক বছরের বেশি সময় বৃদ্ধ বাবা-মা তাকে কবিরাজি চিকিৎসা, বিভিন্ন ফকির ও হুজুর দিয়ে জিন তাড়ানোর চিকিৎসা করেছেন। কিন্তু তাতে ভারসাম্যহীন দাদনের কোনো উন্নতি হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, দাদনকে পাবনা নিয়ে মানসিক ডাক্তার দিয়ে ভালোভাবে চিকিৎসা করতে পারলে সুস্থ হয়ে জীবনযাপন করতে পারবেন। বৃদ্ধ বাবা-মার পক্ষে তাকে নিয়ে পাবনায় গিয়ে চিকিৎসা করানো খুব দুরূহ বিষয়।
ভারসাম্যহীন দাদন বলেন, আমাকে ছেড়ে দেন। আমি হাটে-বাজারে যাব, ঘুরেফিরে জীবন কাটাব। শিকল পরা অবস্থায় আমার থাকতে ভালো লাগে না। কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, সহযোগিতা চাইলে আমরা সহযোগিতা করব। জোরপূর্বক যদি কেউ শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।