বল্টনকে সরিয়ে প্রশাসনে শূন্যতা

ট্রাম্পের আস্থায় কে

অনেক পরামর্শের সঙ্গে একমত না হওয়ায় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টনকে বরখাস্ত করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার হঠাৎ করেই টুইটবার্তায় তিনি এ কথাও জানান, সামনের সপ্তাহে নতুন জাতীয় উপদেষ্টার নাম ঘোষণা হবে। বল্টনের সরে যাওয়ার পরের দিন বুধবার তার মুখপাত্র গ্যারেট মারকুইস, যোগাযোগ পরিচালক সারাহ টিনসলে ও কর্মসূচি নির্ধারক ক্রিস্টিন স্যামুয়েলিয়ানও পদত্যাগ করেন।

এর ফলে হোয়াইট হাউজের কূটনৈতিক উইংয়ে বড় ধরনের শূন্যতা দেখা দিয়েছে। এ শূন্যতা পূরণে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সংক্ষিপ্ত তালিকায় ঘুরে-ফিরে অনেকের নাম আসছে। তবে নিজ চরিত্রের মতোই কাকে ঠিক এই পদে বসাবেন, তা শুধু ট্রাম্প নিজেই জানেন বলে খবর দিয়েছে ফরেন পলিসি।

জন বল্টনকে ওয়াশিংটনের ‘ব্যুরোক্রেট মেশিন’ বলা হতো। ইরান, উত্তর কোরিয়া ও আফগানিস্তান ইস্যুতে প্রেসিডেন্টের ওপর তার যথেষ্ট প্রভাব ছিল। ফলে এ পদে কাকে বেছে নিচ্ছেন, তাতে চোখ রয়েছে গোটা বিশ্বের। অবশ্য গত বুধবার হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প নিজেই সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে খুবই যোগ্য পাঁচজনকে তিনি খুঁজে পেয়েছেন। এদের মধ্যেই একজনের নাম ঘোষণা করবেন।

নতুন নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে আসন্ন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক সামলাতে হবে। এরপরই তার সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে আসবে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা। ওয়াশিংটন সূত্রের বরাতে ফরেন পলিসি বলছে, শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে ট্রাম্প পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর ওপরই আস্থা রাখবেন। তাকে হয়তো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ দায়িত্ব সামলাতে হতে পারে।

অবশ্য ফক্সনিউজ নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ডগলাস ম্যাকগ্রিগরকে এগিয়ে রেখেছে। তিনি সেনাবাহিনীর কর্নেল পদের সফল ব্যক্তিত্ব। তারপরই আছেন স্টিফেন বিগান। তিনি ট্রাম্পের দূত হয়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সফল। তার উদ্যোগেই দীর্ঘ আলোচনা শেষে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ট্রাম্পের দু’দফা বৈঠক হয়। প্রখ্যাত এই রিপাবলিকান বৈদেশিক পলিসিতেও দক্ষ। জর্জ ডব্লিউ বুশের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য ছিলেন। তবে তাকে ট্রাম্প রাশিয়ায় মার্কিন দূত জন হান্টসম্যান কিংবা ডেপুটি সেক্রেটারি জন সুলিভানের জায়গায় চিন্তা করছেন বলে জানা গেছে।