সিজারের ৩ মাস ১৮ দিন পর ফরিদা বেগম (২৬) নামে এক গৃহবধূর পেট থেকে অস্ত্রোপচার করে গজ-ব্যান্ডেজ বের করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে তার দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার করা হয়। ফরিদা সালথা উপজেলার রসুলপুর গ্রামের মাসুদ শেখের স্ত্রী।
স্বজনরা জানায়, গত ২৫ মে সন্তানসম্ভবা ফরিদা শহরের পশ্চিম খাবাসপুর মহল্লার সাফা মক্কা ক্লিনিকে ভর্তি হন। ওই দিনই সিজারের মাধ্যমে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি। ক্লিনিকের চিকিৎসক শ্যামল কুমার বিশ্বাস অস্ত্রোপচার করেন। তিন দিন পর ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি চলে যান ফরিদা। বাড়ি যাওয়ার পর ক্রমেই পেটে ব্যথা অনুভব হতে থাকে তার। সম্প্রতি ব্যথা প্রকট আকার ধারণ করলে একই এলাকার ‘হ্যাপি হাসপাতাল’ নামে বেসরকারি একটি ক্লিনিকে ভর্তি হন ফরিদা। পরে আলট্রাসনোগ্রাম করলে পেটের মধ্যে গজ ব্যান্ডেজের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসক স্বপন কুমার বিশ্বাস অস্ত্রোপচার করে এক টুকরো গজ-ব্যান্ডেজ বের করেন। স্বপন কুমার জানান, রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। সিজারের সময় পেটে গজ-ব্যান্ডেজ রেখেই সেলাই করা হয়। সেই গজ পচে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। রোগী বর্তমানে সুস্থ এবং শঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে চিকিৎসক শ্যামল কুমার জানান, ফরিদার সিজার তিনি করেছিলেন কি না স্মরণ করতে পারছেন না। কখন, কোথায় সিজার করেছেন তা খাতাপত্র না দেখে তার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। এদিকে দায়ী চিকিৎসক এবং ক্লিনিক মালিকের বিচার দাবি করেছেন ফরিদার স্বামী।