আমিনবাজারে বর্জ্য ডাম্পিং স্টেশনের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ

ডিএনসিসিকে সর্বোচ্চ জরিমানার সুপারিশ

রাজধানীর অদূরে সাভারের আমিনবাজারে বর্জ্য ডাম্পিং স্টেশনের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ করায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে (ডিএনসিসি) সর্বোচ্চ জরিমানা করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। এ ছাড়া স্টেশনটি বন্ধ করার নোটিস দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তারা শিগগিরই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।

বৈঠক শেষে সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমিনবাজারের ডাম্পিং স্টেশনটি করার জন্য কোনো পরিবেশ ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি। আমরা কমিটির পক্ষ থেকে বলেছি যে আইনের বিধান অনুযায়ী পরিবেশ দূষণকারী এমন ধরনের কাজ করার সুযোগ নেই। এর আগেও কমিটিতে বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। আজ আমরা সুপারিশ করেছি। এরপর মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানাব।’

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত ৪ এপ্রিলও এই ডাম্পিং স্টেশন নিয়ে আলোচনা হয়। পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে এই ডাম্পিং স্টেশনটি। শুরুতে এই প্রকল্পের জন্য ‘স্থানগত ছাড়পত্র’ পেয়েছিল অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন। ‘স্থানগত ছাড়পত্র’ হলো কোনো এলাকায় কাজ করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পাওয়া ছাড়পত্র। এরপর পরিবেশগত ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয়।

সংসদীয় কমিটির বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, গত এপ্রিলে আমিনবাজারের ডাম্পিং স্টেশন নিয়ে আলোচনার পর পরিবেশ অধিদপ্তর ডিএনসিসিকে ৩টি নোটিস দেয়। কিন্তু এ বিষয়ে সিটি করপোরেশন থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গেও পরিবেশ মন্ত্রণালয় কথা বলে। সিটি করপোরেশন জানায় তাদের দেড়-দুই বছর সময় লাগবে। এই অবস্থায় সিটি করপোরেশনকে জরিমানা এবং ডাম্পিং স্টেশনটি বন্ধের সুপারিশ করল সংসদীয় কমিটি।

 ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৫০ একর জমিতে নির্মাণ করা হয় আমিনবাজার বর্জ্য ডাম্পিং স্টেশন। ২০০৭ সাল থেকে সেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুরু হয়। এই প্ল্যান্টের মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু এখনো সেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চলছে।

মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে বড় প্রকল্প ‘টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্প’ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। ১ হাজার ৫০২ কোটি টাকার প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে কমিটি অসন্তোষ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সফলতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে। আগামী বৈঠকে আবারও এ প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হবে।

প্রকল্প নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রকল্পে বেসিক প্রশিক্ষণের জন্য ১১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কিন্তু কীসের ওপর, কাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, প্রশিক্ষণের মডিউল, এসব এখনো ঠিক হয়নি। ৬০০টি গ্রাম নির্বাচন করার কথা, এখন পর্যন্ত ৪০-৫০টি গ্রাম নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো চেকলিস্ট নেই, সময়সীমা নেই। কিন্তু গাড়ি কেনা হয়েছে হুলুস্থুল করে। এটি মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রকল্প। কিন্তু এটির বাস্তবায়ন প্রত্যাশার ধারেকাছেও নেই। পরিকল্পনার দিক থেকে কোনো স্বস্তি চোখে পড়েনি, বাস্তবায়ন তো দূরের কথা। তাদের নামটা যত ভালো কাজটা ততটা ভালো নয়। তিনি বলেন, এই প্রকল্পে সার্বক্ষণিক প্রকল্প পরিচালক নেই। মন্ত্রণালয় বলেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে পিইসি পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু কী অভিযোগ, সেটা তদন্ত হয়েছে কি না, তার সদুত্তর পাওয়া যায়নি। কমিটি বৈঠকে বলেছে মন্ত্রণালয় ভালো চলছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ বছর মেয়াদি এই প্রকল্প আগামী ২০২৩ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা। এটি বাস্তবায়ন করছে বন অধিদপ্তর। প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার ৩২ কোটি ৭২ লাখ টাকা অর্থায়ন করছে। বাকি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।

সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুর নাহার, মোজাম্মেল হোসেন, দীপংকর তালুকদার, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, জাফর আলম, রেজাউল করিম বাবলু এবং খোদেজা নাসরিন আক্তার উপস্থিত ছিলেন।