সৌদিতে ড্রোন হামলায় জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা

সৌদি আরবের তেলখনিতে ড্রোন হামলার পর উৎপাদনে বড়সড় ধস শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় জ্বালানি তেলের দরে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সৌদি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের এই হামলায় তেল উৎপাদন প্রায় অর্ধেক কমে গেছে।

শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আরামকোর দুইটি তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ স্থাপনায় বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালায় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। এ ঘটনার দায় স্বীকারও করে তারা। তবে হামলার জন্য  ইরানকে দায়ী করছে রিয়াদ ও ওয়াশিংটন৷

ডয়চে ভেলে বাংলা জানিয়েছে, হামলার কারণে দুইটি প্ল্যান্টের দৈনিক ৫৭ লাখ ব্যারেলের তেল উৎপাদন বন্ধ রয়েছে, যা দেশটির মোট উৎপাদনের অর্ধেক আর বৈশ্বিক গড় উৎপাদনের ৫ ভাগ।

এনভেরাস নামের একটি বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রেসিডেন্ট বারনাদেত্তে জনসন বলেন, “সৌদি আরবে যে কোনো ধরনের হামলাই তেলের বাজারকে অস্থিতিশীল করবে, কেননা জ্বালানি তেল উৎপাদনের বড় অংশই তাদের দখলে।”

তার মতে, দ্রুত এই দুইটি প্ল্যান্টের উৎপাদন শুরু না হলে দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটতে পারে।

সিএনবিসি বিভিন্ন বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে বলছে, সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেন শুরু হলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে ৫ থেকে ১০ ডলার বাড়বে। যা শেষ পর্যন্ত ১০০ ডলারও স্পর্শ করতে পারে।

সবশেষ শুক্রবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে প্রতি ব্যারেল ৬০ দশমিক ২২ ডলার।

এদিকে এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করছে রিয়াদ ও ওয়াশিংটন। হুতি বিদ্রোহীরা হামলা চালিয়েছে এমন দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

তিনি বলেন, “ইয়েমেন থেকে ড্রোন আসার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।”

বিশ্বের জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় এমন হামলা নজিরবিহীন উল্লেখ করে তিনি ইরানের ওপরই দায় চাপিয়েছেন। পাশাপাশি সব দেশকে ইরানের এই হামলার প্রতি নিন্দা জানানোর আহ্বান জানান।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগে ব্যর্থ হয়ে পম্পেও ইরানের সাথে ‘সর্বোচ্চ প্রতারণা’ শুরু করেছেন।