বাতিঘর আড্ডায় শীর্ষেন্দু

আমার লেখার উদ্দেশ্য একটাই, সাড়া দাও

‘টাকা নয়, খ্যাতি নয় মানুষের মাঝে আমার লেখার তরঙ্গটা উঠছে কি-না। আমার লেখার একটাই উদ্দেশ্য সাড়া দাও।’ নিজের লেখা নিয়ে বললেন সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। গতকাল সোমবার সকালে বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সপ্তম তলায় বই বিপণন কেন্দ্র বাতিঘর আয়োজিত ‘আমার জীবন আমার রচনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

পাঠকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমার লেখার উদ্দেশ্য একটাই, লেখার জন্য আমার মাঝে যে তরঙ্গটি উঠছে, পাঠক যখন সেটি পড়ছে, তার মাঝেও কি একই রকম তরঙ্গ উঠছে? আমি যেভাবে ভাবছি, পৃথিবীকে দেখছি সেই ভাবনাটা পাঠককে ছুঁয়ে যাচ্ছে কি না। মানুষের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া জানার জন্যই আমি লিখি। সেই ১৬/১৭ বছর বয়সেই ঠিক করে নিয়েছি লেখালেখি করব।’

পেশা হিসেবে লেখালেখিকে সমর্থন করেন না জানিয়ে শীর্ষেন্দু বলেন, ‘লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নিলে কিন্তু মুশকিল। যখন এটা পেশা হয়ে যাবে, তখন কিন্তু পাঠক কী চায়, সেটা লিখতে হবে। পাঠক এখন কী খেতে চাইছে,  সেটা ধরে লিখলে কিন্তু লেখার সঙ্গে আপস করা হয়ে যাবে। আমি লিখব, পাঠক সেটা নেবে কি নেবে না, তা পাঠকের বিষয়। লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নেওয়াটা বিপজ্জনক।’

নিজের লেখা নিয়ে তিনি বলেন, ‘কখনো প্লট ভেবে লিখি না। আমি লেখাতে চরিত্র সৃষ্টি করি না। বরং চরিত্র আমাকে লেখক হিসেবে সৃষ্টি করে।’ নতুন লেখকদের প্রসঙ্গে বলেন, ‘আত্তীকরণ না হলে লেখা হয় না। সেটা সাহিত্য নয়, আবর্জনা বা সুইসাইডাল টাইপ কিছু হয়।’

বাতিঘরের কর্ণধার দীপঙ্কর দাশের সঞ্চালনায় পাঠকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন যাও পাখি, মানবজমিন, দুরবিন, পারাপার, পার্থিবসহ অনেক জনপ্রিয় উপন্যাসের এই লেখক। পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যে ভুবনে বাস করছি সেই ভুবনটাকে আমরাই ধ্বংস করছি। এই যে আমাজনে আগুন লাগল। আমি তো মনে করি আমাজনে আগুন লাগানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প বলছেন, ‘আমাদের দেশে তো এখন প্রচ- শীত। তাহলে কীভাবে গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কথা স্বীকার করব।’ তিনি বুঝতেই পারছেন না যে ক্লাইমেট আর ওয়েদার এক জিনিস নয়। এটাই বড় বিপদ।” এভাবেই প্রশ্ন-উত্তরে দীর্ঘ সময় আড্ডায় মাতেন শীর্ষেন্দু। সবশেষে পাঠকদের অটোগ্রাফ দেন তিনি।