কড়া নাড়ছে দুর্গোৎসব

চট্টগ্রামে ফুসরত নেই প্রতিমা শিল্পীদের

শারদীয় দুর্গাপূজার ১৬ দিন বাকি। এরই মধ্যে চট্টগ্রামে কড়া নাড়ছে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। জেলার মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতে গড়ে উঠছে দুর্গা, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, মহিষাসুরসহ দেবীর বাহন সিংহ।

বাঙালি হিন্দুসম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এ ধর্মীয় উৎসব ঘিরে জেলার মৃৎশিল্পীদের ফুসরত নেই। চার মাস ধরে দিনরাত এক করে তারা প্রতিমা গড়ছেন। পূজামণ্ডপের ভিন্ন ভিন্ন বিষয় ও ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখে এগুলো তৈরি করা হচ্ছে।

মহালয়া থেকে বাঙালি হিন্দুদের পুজো শুরু। তবে কাগজে-কলমে এ দেশে দুর্গাপূজা ৩ অক্টোবর, পঞ্চমী থেকে। ৮ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হবে এ উৎসব।

গত রবিবার সরেজমিনে জেলার কয়েকটি মৃৎশিল্পালয় ঘুরে দেখা যায়, দেব-দেবীর মূর্তির মাটির ৮০ শতাংশ কাজ শেষ। এখন শিল্পীরা শেষ আঁচড় দিচ্ছেন। আগামী সপ্তাহ থেকে রং ও সাজসজ্জা করা হবে।

মৃৎশিল্পীরা জানান, কয়েক বছর মাটির শাড়ি ও অলংকারের তৈরি মূর্তির চাহিদা ছিল। তবে এবার সনাতনী বাংলা প্রতিমার চাহিদা বেশি। চাহিদা অনুযায়ী নগরীর পাথরঘাটা, সদরঘাট, দেওয়ানজী পুকুরপাড়, গোয়ালপাড়ার শিল্পীরা প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

ছোট-বড় মিলে ৪০ সেট প্রতিমার অর্ডার পেয়েছেন সদরঘাটের প্রতিমা শিল্পী সুজন পাল। ১০ জন মিলে এগুলো তৈরি করছেন। তিনি জানান, এখন আর অর্ডার নিচ্ছি না। যা পেয়েছি, সেগুলো তৈরি করে সাদা রঙের কাজ শেষ করা হচ্ছে। ২ অক্টোবরের মধ্যে এগুলো বুঝিয়ে দেব। এ জন্য এখন তাদের দম ফেলার ফুসরত নেই।

মাটির মণ্ড তৈরি করে কাঠ ও খড়ের কাঠামোতে লাগিয়ে আস্তে আস্তে প্রতিমার রূপ দেওয়া হয়। দেওয়ানজী পুকুরপাড়ে রূপশ্রী শিল্পালয়ের মূর্তির আলাদা সুনাম রয়েছে জেলায়। এ শিল্পালয়ের মালিক রতন কৃষ্ণ পাল জানান, তাদের কারখানার মূর্তিতে সাদা রং করা শেষ। এটি শুকানোর পরই সাজসজ্জা করবেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সনাতনী প্রতিমা তৈরি করি। এবার ৩৩টি মণ্ডপের কাজ পেয়েছি। সৌন্দর্য, পূজার নিয়মনীতির সব মেনে এসব প্রতিমা গড়া হচ্ছে।’

গোয়ালপাড়া কেদারনাথ তেওয়ারি শিববাড়ি লেইনের প্রতিমা শিল্পী শ্যামল পাল জানান, দুর্গাপূজার সময়ে তাদের সব ব্যস্ততা। ভোর থেকে কাজ শুরু করেন। মাঝরাতও লেগে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আয়ের জন্য কাজ করছি বললে ভুল হবে। মা দুর্গাকে অন্তর থেকে ভক্তি করি। এ জন্যই সব চেষ্টা থাকে মায়ের অবয়ব ফুটিয়ে তুলতে।

মহানগরী পুজো উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশিষ ভট্টাচার্য দেশ রূপান্তরকে জানান, গতবার জেলায় ১ হাজার ৮২৫ এবং মহানগরীতে ২৫৫টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন করা হয়। শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করে এবারের বিষয়টি জানানো হবে।