ভায়রা পুলিশ কর্মকর্তাকে ঋণ দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন প্রবাসী!

কুমিল্লার মুরাদনগরে আত্মীয় পুলিশ কর্মকর্তার কাছে পাওনা টাকা দাবি করায় জাহাঙ্গীর আলম বাবুল নামে এক সৌদি প্রবাসীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। দুই পুলিশ কর্মকর্তার প্রভাবে প্রাণ হারানোর শঙ্কায় ওই প্রবাসী এখন বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে ‘একাধিক মিথ্যা মামলা’সহ নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ধামঘর গ্রামের মৃত আবদুর রশীদের ছেলে বাবুল।

লিখিত অভিযোগে বাবুল জানান, গত ১১ বছর যাবৎ সৌদি আরবের আল কাছিম নগরীতে তিনি ফার্নিচারের ব্যবসা করে আসছেন। ২০১৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি একই গ্রামের মুজিবুর রহমানের মেয়ে মাহবুবা রহমান নিশার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। নিশার বড় বোনের জামাতা (বর্তমানে) পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান খোকন এবং চাচা পুলিশ পরিদর্শক মোবারক সরকার।

তিনি দাবি করেন, বিয়ে করে বিদেশে চলে যাওয়ার পর আত্মীয়তার সূত্র ধরে তার কাছ থেকে তার ভায়রা (বর্তমানে) গাজীপুর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মনিরুজ্জামান খোকন আট লাখ টাকা ধার নেন। এরপর শ্বশুর এবং শাশুড়ি মিলে আরও সাড়ে চার লাখ টাকা নেন। এক বছর পর দেশে এসে তার পাওনা ফেরত চাইলে এনিয়ে ভায়রা এবং শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে বিবাদ সৃষ্টি হয়।

বাবুল অভিযোগ করে বলেন, পাওনা টাকা আবারও দাবি করলে ২০১৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সাবেক শাশুড়ি শাহনাজ বেগমকে বাদী করে তার বিরুদ্ধে ভাঙচুর, লুটপাট, শ্লীলতাহানি ও চুরির অভিযোগ এনে মুরাদনগর থানায় একটি সাজানো মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে পুলিশ।

তিনি বলেন, প্রায় এক বছর মামলা পরিচালনার পর আদালত থেকে বেকসুর খালাস পেয়ে সৌদি আরবে চলে যান। সম্প্রতি দেশে ফিরে পাওনা টাকা ফেরত পেতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দ্বারস্থ হলে তারই সাবেক শ্যালক রেজাউল করিম সাফায়াতকে বাদী করে তার বিরুদ্ধে থানায় আরেকটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।

এই সৌদি প্রবাসী বলেন, অভিযোগের তদন্ত করতে মুরাদনগর থানার উপপরিদর্শক এসআই জালাল উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এর আগের মামলায়ও এসআই জালাল উদ্দিন তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন।

জানতে চাইলে পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম বাবুলের নিকট থেকে ঋণ বাবদ কোনো টাকা-পয়সা নেইনি। তার কাছে এ ধরনের কোনো প্রমাণাদি নেই। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশের বিভাগীয় তদন্তের তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাবুলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা এবং অভিযোগ সম্পর্কে আমি অবগত নই। মূলত আমার শ্যালিকা তাকে ডিভোর্স দেওয়ার পর থেকে সে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করছে।’

পুলিশ পরিদর্শক মোবারক সরকার বলেন, ‘জাহাঙ্গীর আলম বাবুল একজন বখাটে প্রকৃতির ছেলে। যার ফলে আমার ভাতিজি তার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।’

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জালাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রবাসী বাবুলের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করছি। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’